---Advertisement---

‘ইলেকশন কমিশন ঠিক করো’, ভোটাধিকার ইস্যুতে সরব ‘ককরোচ জনতা পার্টি’, দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক

By Suman Debnath

September 24, 2026 3:10 PM

‘ইলেকশন কমিশন ঠিক করো’, ভোটাধিকার ইস্যুতে সরব ‘ককরোচ জনতা পার্টি’, দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক

---Advertisement---


নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে বিতর্কের আবহেই এ বার সরাসরি কমিশন সংস্কারের দাবিতে সরব হল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে সমাজমাধ্যমে বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, ভোটার তালিকা এবং ভোটাধিকার নিয়ে প্রশ্ন থাকলে স্কুল, বেকারত্ব বা পরিকাঠামোর মতো অন্যান্য ইস্যুতে আন্দোলন করেও বিশেষ লাভ হবে না। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, নির্বাচন কমিশনকে ‘ঠিক’ করাই এখন তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। এই বিষয়ে বৃহস্পতিবার দিল্লিতে গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক বৈঠকের ডাক দিয়েছে সংগঠন।

বৃহস্পতিবারের নির্ধারিত কর্মসূচিও বাতিল করেছে সিজেপি। সংগঠনের নেতৃত্বের দাবি, ‘ভারতের গণতন্ত্রের অপহরণ’ বিষয়টিকে সামনে রেখেই দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক হবে। সেখানে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, ভোটাধিকার এবং ভোটার তালিকা নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে পারে সংগঠনটি।

ভোটাধিকারই মূল প্রশ্ন

সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাসের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের কার্যকলাপের ফলে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার প্রশ্নের মুখে পড়ছে। তাঁর বক্তব্য, স্কুল পরিকাঠামো, আদিবাসী শিক্ষা, বেকারত্ব কিংবা পরীক্ষায় অনিয়মের মতো বিষয় নিয়ে আন্দোলন করলেও, যদি মানুষ ভোটের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের সুযোগ না পান, তা হলে সেই আন্দোলনের প্রভাব সীমিত হয়ে যাবে।

তাঁদের বক্তব্যে নির্বাচনকে তাই পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। সংগঠনের দাবি, ভোটার তালিকা এবং ভোটাধিকার সুরক্ষিত না থাকলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় অন্য সামাজিক ও অর্থনৈতিক দাবির আন্দোলনও কার্যত দুর্বল হয়ে পড়ে।

কমিশনের অন্দরের মতপার্থক্য ঘিরে বিতর্ক

নির্বাচন কমিশনের অন্দরে মতপার্থক্য নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের পরেই সিজেপির এই অবস্থান সামনে এসেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী গত ১০ মাসে কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও নির্দেশ নিয়ে অন্তত ১৪ বার লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন।

ভোটার তালিকায় নাম সংযোজন, নাম বাদ দেওয়া এবং পুনর্বহাল করা ছাড়াও বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর চলাকালীন ভোটার নথিভুক্তির পদ্ধতি নিয়েও তাঁদের আপত্তির কথা প্রতিবেদনে উঠে আসে। ফলে কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

যদিও সেই বিতর্কের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, বহু সদস্যের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে লিখিত মতামত, পর্যবেক্ষণ, প্রযুক্তিগত পরামর্শ এবং অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ। কমিশনের দাবি, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মতভাবেই নেওয়া হয়েছে। এসআইআর-সহ সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলিও তিন কমিশনারের অনুমোদনেই হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন।

এদিকে এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের একাংশ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের দাবিও তুলেছে। এই আবহে অভিজিৎ দিপকের সংগঠন নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম, ভোটার তালিকা এবং ভোটাধিকার সুরক্ষাকেই নিজেদের পরবর্তী রাজনৈতিক কর্মসূচির কেন্দ্রে আনার কথা জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার দিল্লির সাংবাদিক বৈঠক থেকেই সেই কর্মসূচির বিস্তারিত রূপরেখা প্রকাশ করা হতে পারে।

 

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment