আইআইটি বম্বের (IIT Bombay) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সাহিল ওয়াকোড়ের মৃত্যু ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে। আর তার মধ্যেই আইআইটির (IIT Bombay) অধ্যাপক সূর্যনারায়ণ ডুল্লাকে ছুটিতে পাঠালেন কর্তৃপক্ষ। সাহিলের মৃত্যুর ঘটনায় অধ্যাপক ডুল্লার বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা এবং জাতপাতের ভিত্তিতে বৈষম্যের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবারই তাঁকে ডিনের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
এনার্জি সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের বি-টেক পড়ুয়া সাহিল ওয়াকোডেকে গত ১৮ সেপ্টেম্বর পাওয়াই ক্যাম্পাসের (IIT Bombay) হস্টেলের ঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। মিড সেমেস্টার পরীক্ষার সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। পরীক্ষায় চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করার কথা বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন আইআইটি বম্বে (IIT Bombay)। পরে সেই বিবৃতি থেকে সরে আসে কর্তৃপক্ষ। তাঁদের আগে বিবৃতির জন্য ক্ষমাও চেয়ে নেন তাঁরা।
আরও পড়ুন: উত্তরপ্রদেশে ভয়াবহ কাণ্ড! স্ত্রী ও দুই পুরোহিতকে খুন, তিন সন্তানকে পণবন্দি, অবশেষে এনকাউন্টারে মৃত্যু এক যুবকের
এই ঘটনায় আইআইটি কর্তৃপক্ষ ১০ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্তের রিপোর্ট দিতে বলা হয়ছে কমিটিকে। সাহিলের মৃত্যুর ঘটনায় মুম্বাইয়ের অপরাধদমন শাখাও আলাদাভাবে তদন্ত চালাচ্ছে। অভিযুক্ত ডুল্লাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলবও করা হয়েছে বলে খবর। তদন্তকারী আধিকারিকদের বক্তব্য, এখনও অধ্যাপকের বয়ান রেকর্ড করা হয়নি। ইতিমধ্যেই সাহিলের বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলেছেন তদন্তকারীরা।
সাহিলের মা সোনালি ওয়াকোডের দাবি, মৃত্যুর আগে তাঁর ছেলে পরিবারের সদস্যদের কাছে জাতপাতের কারণে তাঁকে অপমান, দুর্ব্যবহার এবং হয়রানির শিকারের কথা জানিয়েছিলেন। সাহিল তাঁর সঙ্গে হওয়া এই দুর্ব্যবহারের জন্য বিশেষ ভাবে অধ্যাপক ডুল্লার নাম করেছিলেন। মা সোনালিদেবীর দাবি, অধ্যাপক জাতপাত তুলেও মন্তব্য করেছিলেন বলেও সাহিল পরিবারকে জানিয়েছিলেন।
আরও পড়ুন: স্থলভাগের দিকে এগোচ্ছে গভীর নিম্নচাপ, বুধবারই ঝড়বৃষ্টি হতে পারে, ৬ জেলায় সতর্কতা
মঙ্গলবার সাহিলের বাবা-মায়ের বয়ান রেকর্ড করেছে অপরাধদমন শাখা। সূত্রের খবর, সাহিলের বাবা-মা অভিযুক্ত দুই অধ্যাপক শিরীষ কেদারে এবং সূর্যনারায়ণ ডুল্লার ইস্তফার দাবি জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে গ্রেপ্তারির দাবিও করেছেন তিনি। এই দাবি মানা না হলে অনশনে বসার কথাও জানিয়েছেন তাঁরা। সাহিলের মা সোনালি আরও বলেন, তাঁর ছেলের উপর প্রায় তিন মাস ধরে এই ধরনের আচরণ চলছিল। সাহিলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং তাঁর পরিবারের অভিযোগের সত্যতা বর্তমানে তদন্ত করে দেখছে মুম্বই ক্রাইম ব্রাঞ্চ।
দেখুন:
Leave a Comment