এখন পশ্চিমবঙ্গে ডবল ইঞ্জিন সরকার। মে মাসে তা প্রতিষ্ঠা হয়েছে। আর এই সাড়ে চার মাসের সরকার চলাকালীনই প্রকাশ্যে চলে এল দলীয় কোন্দল এবং সংঘাত। যা নিয়ে এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে। দমদম পার্কের এক সভায় রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা বিধাননগরের বিজেপি বিধায়ক শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং রাজারহাট-নিউটাউনের বিজেপি বিধায়ক পীযূষ কানোরিয়ার প্রকাশ্যে বাক-বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তুমুল আলোড়ন তৈরি হয়েছে। দুই হেভিওয়েট নেতার বাক-বিতণ্ডার জেরে দল চরম অস্বস্তিতে পড়েছে।
এদিকে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ‘বিধায়ক দরবারে’ হঠাৎই হাজির হন রাজারহাট-নিউটাউনের বিজেপি বিধায়ক পীযূষ কানোরিয়া। আর সেখানে এসেই শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের উদ্দেশে সুর চড়িয়ে, আঙুল তুলে কথা বলতে দেখা যায় তাঁকে। তোলাবাজি, সিন্ডিকেট নিয়ে বিস্তর ক্ষোভ শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের সামনে তুলে ধরেন পীযূষ কানোরিয়া। দমদম পার্কে প্রকাশ্যে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে পীযূষের এভাবে বচসায় জড়ানো নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েছে রাজ্যের শাসকদল। পীযূষ কানোরিয়াকে দেখে মন্ত্রী তাঁকে একাধিকবার মঞ্চে আহ্বান করেন। কিন্তু তিনি মঞ্চে উঠতে অস্বীকার করেন। পীযূষের অনুগামীরা তখন মঞ্চে উপস্থিত কিছু ব্যক্তিকে নিয়ে প্রকাশ্যে আপত্তি তোলে। সেখান থেকেই বচসার শুরু। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজে মঞ্চ থেকে নেমে এসে পীযূষের হাত ধরে টেনে মঞ্চে তোলেন। কিন্তু ততক্ষণে যা ঘটার ঘটে গিয়েছে।
অন্যদিকে গতকাল নিজের বিধানসভা এলাকায় দক্ষিণ দমদম পুরসভার ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে বিধায়ক দরবারে বসেছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। রাত পৌনে ৮টা নাগাদ বৈঠক শুরু হয়। যখন এলাকার মানুষের অভিযোগপত্র পড়ছিলেন শারদ্বত মুখোপাধ্যায় হঠাৎই সেখানে হাজির হন বিধায়ক পীযূষ। যেখানে সাধারণ মানুষ বসেছিলেন সেখানে বসে পড়েন তিনি। পীযূষের এমন আচরণ দেখে অবাক হন অনেকেই। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘আমাদের মধ্যে পাশের বিধানসভার বিধায়ক পীযূষ কানোরিয়া উপস্থিত হয়েছেন। পীযূষদা আপনি মঞ্চে উঠে আসুন।’ পাল্টা পীযূষ কানোরিয়া তখন বলেন, ‘আমি অন্য বিধানসভার বিধায়ক এটা আপনি বলতে পারেন না। দমদম পার্ক আমার আদি জায়গা, আমি এখানকারই বাসিন্দা। আমি এলাকায় কোনওদিন কাউকে সন্ত্রাস বা অন্যায় চালাতে দিইনি। আর সেটা বিঘ্নিত হলে আমি ছেড়ে কথা বলার পাত্র নই।’
তাছাড়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী অনেক অনুরোধ করার পর তাঁর পাশের চেয়ারে গিয়ে বসেন পীযূষ কানোরিয়া। কিন্তু তাতে পরিস্থিতি ঠিক হয়নি সেটা সকলে বুঝতেই পারছিলেন। থমথমে মুখ নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পাশে বসেছিলেন পীযূষ। ওই বৈঠক চলাকালীন শারদ্বত মুখোপাধ্যায় কয়েকটি চিঠি পড়েন। ওই সব চিঠিতে সিন্ডিকেট এবং তোলাবাজির অভিযোগ ছিল। এই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এখন বদলের সরকার। আপনারা সরকার বদলে দিয়েছেন। আমরা বলছি, ভয় আউট ভরসা ইন। না খাব, না কাউকে খেতে দেব। কাউকে ভয় পাওয়ার দরকার নেই। তৃণমূল জমানায় এসব হতো। আমি বলব না যে আমাদের এখানে সব ভাল চলছে। কী খারাপ হচ্ছে সেটা শুনতেই আমি এখানে এসেছি। ৯০ শতাংশ চিঠিতে মানুষ নামপ্রকাশ করতে চাননি। সুতরাং ভয় আউট আর ভরসা ইন আমরা পুরোপুরি করতে পারিনি। সমাজে তোলাবাজি পুরোপুরি বন্ধ হয়েছে, এটা মানতে পারছি না।’ এরপরই পীযূষ কানোরিয়া মাইক্রোফোন নিয়ে উচ্চস্বরে বলতে থাকেন, ‘জীবনে কাউকে সিন্ডিকেট চালাতে দিইনি। দমদম পার্কে অনেক ঘটনা আছে। লালকুঠি থেকে আমরা এতদিন যাদের ঢুকতে দিইনি, আবার তাদের রাজনৈতিকভাবে কেন ঢোকানো হচ্ছে? সেটা আপনাকে বলতে হবে। আমাদের অফিসে মেশিন নিয়ে ভয় দেখিয়েছিল যে তাকে কেন আপনার পাশে বসা লোকেরা ঢোকাচ্ছেন? তার কৈফিয়ত দিতে হবে। দমদম পার্ক শান্ত আছে। সেটা যেন কোনওভাবে অশান্ত না হয় সেটা দেখুন। এটা আপনার কাছে আমার অনুরোধ।’
Leave a Comment