যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু হয়েছিল হামলা। তারপর তা ক্রমাগত ছড়িয়ে পড়ে নানা প্রান্তে। বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই বিরোধীদের উপর হামলা, আক্রমণ নামিয়ে আনা হচ্ছিল। সেটা চরমে পৌঁছয় গতকাল সন্ধ্যাবেলা। ঘটনাস্থল সেই যাদবপুর। মমতা তৃণমূলের আইটি সেলের প্রধান উপাসনা চৌধুরী থেকে শুরু করে প্রাক্তন বিধায়ক তথা আইপিএস অফিসার হুমায়ুন কবীরের উপর নির্মম আক্রমণ নামিয়ে আনা হয় বলে অভিযোগ। খোদ যাদবপুর থানার সামনে মুখ ফাটিয়ে রক্তাক্ত করা হয় তাঁকে বলে অভিযোগ। আবার বিরোধী দলের নেত্রীকে শারীরিকভাবে নিগ্রহ করা হয় ভরসন্ধ্যায় রাজপথে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এবার এইসব কাজের বিরুদ্ধে সরব হলেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
পূর্ব যাদবপুর থানার বাইরে হুমায়ুন কবীরকে মারধর থেকে শুরু করে বারুইপুর আদালতে সিপিএম নেতা তথা আইনজীবী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে ডিম ছোঁড়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এবার এই ঘটনায় বিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকেই দায়ী করে পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ তোপ দাগেন, বিজেপি এই ধরনের কার্যকলাপ সমর্থন করে না। কদিন আগে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেছিলেন, বিরোধী রাজনীতির জায়গাও থাকা উচিত। কিন্তু এতকিছু বলার পরও এমন নির্মম হামলা, আক্রমণ দেখছেন পশ্চিমবঙ্গের মানুষজন। যা একেবারেই সমর্থন করেন না পঞ্চায়েতমন্ত্রী। বুধবার সে কথা খোলখুলিই জানিয়ে দিলেন।
এই হামলা, আক্রমণের জেরে বিজেপির বদনাম হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী। তাতে হামলাকারীদের উপর চাপ বেড়ে গেল বলে মনে করা হচ্ছে। দিলীপ ঘোষ বুধবার সরাসরি সুর চড়িয়ে বলেন, ‘সবকিছুর একটা সীমা থাকা উচিত। আদালত চত্বরে কেউ কী করে ডিম নিয়ে ঢুকছে? সেটা পুলিশের দেখা উচিত ছিল। কে, কেন মারছে? সবকিছুর একটা সীমাও থাকা উচিত।’ পঞ্চায়েতমন্ত্রীর এই মন্তব্য সিপিএম নেতা তথা আইনজীবী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর আক্রমণের প্রেক্ষিতেই বলে মনে করা হচ্ছে।
তাছাড়া গতকাল যে হামলা, আক্রমণ হয়েছে সেটা নিয়ে আক্রান্তদেরই দায়ী করেছেন তিনি। সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়ালেও উপাসনা এবং হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধেই মন্তব্য করেছেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী। দিলীপ ঘোষের কথায়, ‘বিক্ষোভ যে কেউ দেখাতে পারে। বিক্ষোভ দেখানো কে শুরু করেছে? সিপিএম শুরু করেছে, হাইকোর্টে বিচারপতিকে ঘিরে বিক্ষোভ কে দেখিয়েছে? তৃণমূল শুরু করেছে! এটা তো কালচার হয়ে গিয়েছে এখন। আমরা চাই এগুলি বন্ধ হোক। আর হুমায়ুন কবীরকে মারবে কেন? উনি তো তৃণমূলও নয়, বিজেপিও নয়। আজ যারা হতাশ, নিরাশ মানুষ, সেসব বিরোধী পার্টিরা নিজেরা ঝগড়া করছে। নিজেরা অফিস ভাঙছে, ড্রামা করে খালি প্রচারে আসার চেষ্টা করছে। এই নিয়ে আমাদের কোনও মাথাব্যথা নেই। ওরা নিজেরা অস্তিত্ব সঙ্কটে ভুগছে। নাটক করে বেশি কিছু হবে না।’
Leave a Comment