অবসরের পর জীবনের শেষ আশ্রয়টুকুও কি কেড়ে নেওয়া যাবে? বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসনে বসবাসরত অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের সেই উদ্বেগেই এবার আইনের ঢাল হয়ে দাঁড়াল কলকাতা হাইকোর্ট।
বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোয়ার্টার থেকে অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের উচ্ছেদের নোটিসকে ঘিরে মামলায় ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিল—আইনি প্রক্রিয়া মেনে না নিয়ে পুলিশ বা প্রশাসনের সাহায্যে কাউকে জোর করে উচ্ছেদ করা যাবে না।
বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য ও বিচারপতি সন্দীপ কুমার দের ডিভিশন বেঞ্চে মামলাকারী তপন পাণ্ডা ও অন্যদের পক্ষের আইনজীবি অভিষেক হালদার ও আইনজীবি অরিত্র ভট্টাচার্য্য আদালতে জানান,বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে ১০ জুন, ২০২৬-এ জারি করা নোটিসে কোয়ার্টার খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। নোটিসে আরও বলা হয়েছিল, নির্দেশ না মানলে জেলা পুলিশ প্রশাসনের সাহায্যে ‘জোরপূর্বক উচ্ছেদ’-এর উপযুক্ত পদক্ষেপ করা হবে।
এই ভাষাতেই আপত্তি জানান অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরা। তাঁদের আশঙ্কা ছিল, আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই তাঁদের মাথার উপর থেকে ছাদ সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। মামলায় আরও অভিযোগ ওঠে, তাঁদের বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
বিষয়টি খতিয়ে দেখে হাইকোর্ট জানায়, নোটিসটি মূলত আইন অনুযায়ী উচ্ছেদ প্রক্রিয়া শুরুর পূর্ববর্তী পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা যেতে পারে। কিন্তু ‘জোরপূর্বক’ এবং ‘জেলা প্রশাসনের সাহায্যে’—এই ধরনের শব্দ ব্যবহারের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আদালতে জানায়, তাদের উদ্দেশ্য ছিল কেবল আইন মেনে পরবর্তী পদক্ষেপের কথা জানানো। সেই বক্তব্যের ভিত্তিতেই আদালত স্পষ্ট করে দেয়,নোটিসের কোনও অংশই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের পুলিশ বা প্রশাসনের সাহায্যে, কিংবা অন্য কোনও উপায়ে, আইনসম্মত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে জোর করে উচ্ছেদের অধিকার দেয় না।
অর্থাৎ, অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় চাইলে আইনানুগ উচ্ছেদ প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে, কিন্তু আইনের দরজা এড়িয়ে সরাসরি জোর করে তাঁদের ঘরছাড়া করা যাবে না।
বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়টি নিয়ে আদালত জানায়, সংযোগ ইতিমধ্যেই বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় ওই প্রার্থনা আপাতত নিষ্প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে। তবে এ বিষয়ে উপযুক্ত আইনি প্রতিকারের জন্য অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের সিঙ্গল বেঞ্চে যাওয়ার স্বাধীনতা দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ।
শেষ পর্যন্ত সিঙ্গল বেঞ্চের আগের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করেনি ডিভিশন বেঞ্চ। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা স্পষ্ট করে দিয়েছে,অধিকার নিয়ে বিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু আইনকে পাশ কাটিয়ে কারও মাথার ছাদ কেড়ে নেওয়া যাবে না।








Leave a Comment