আজ সন্ধ্যায় দিল্লিতে বৈঠকে বসতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং (Xi Jinping)। দ্বিপাক্ষিক এই বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত একাধিক বিষয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে চিনের সঙ্গে ভারতের বেড়ে চলা বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে চিনে ভারতের রপ্তানি বেড়ে হয়েছে ৩৬.৬২ শতাংশ। যা পৌঁছেছে ১৯.৪৭ বিলিয়ন ডলারে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে এই পরিমাণ ছিল ১৪.২৫ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, একই সময়ে চিন থেকে ভারতের আমদানি ১৬.০৩ শতাংশ বেড়েছে। তারফলে ১১৩.৪৬ বিলিয়ন ডলার বেড়ে হয়েছে ১৩১.৬৩ বিলিয়ন ডলারে।
ফলে চিনের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের ৯৯.২১ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ১১২.১৬ বিলিয়ন ডলার। ২০২৬ সালের BRICS সম্মেলনে যোগ দিতে ইতিমধ্যেই ভারতে এসেছেন শি জিনপিং।
আরও পড়ুন: BRICS-এ থাকছে নানান পদ, রাজমা থেকে দম আলু ও মিলেটের ক্ষীর, অতিথিদের জন্য স্বাদের বাহার
চিনই ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার
২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে চিনের সঙ্গে ভারতের পণ্য বাণিজ্য ১৮.৩১ শতাংশ বেড়ে ১৫১.১০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এই বৃদ্ধির ফলে আমেরিকাকে পিছনে ফেলে চিন বর্তমানে ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার হয়ে উঠেছে।
তবে গত কয়েক বছরে চিনের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে এই ঘাটতি ছিল ৮৩.২ বিলিয়ন ডলার, ২০২২-২৩-এ ৭৩.৩ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২১-২২-এ ৪৪ বিলিয়ন ডলার। ফলে দুই দেশের মধ্যে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
আমদানির বড় অংশ শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল
IANS-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত-চিন বাণিজ্য ঘাটতির বিষয়টি শুধুমাত্র চিনা ভোগ্যপণ্য ভারতে ঢোকার কারণে তৈরি হয়নি। চিন থেকে ভারতের আমদানির একটি বড় অংশই শিল্পের প্রয়োজনীয় উপকরণ, বিভিন্ন যন্ত্রাংশ এবং মূলধনী পণ্য। ভারতীয় সংস্থাগুলি এই উপকরণ ব্যবহার করে পণ্য উৎপাদন ও কর্মসংস্থান তৈরি করে।
GTRI-এর একটি প্রতিবেদনের অনুযায়ী, ইলেকট্রনিক্স, যন্ত্রপাতি, কম্পিউটার এবং জৈব রাসায়নিক—এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র চিন থেকে ভারতের মোট আমদানির প্রায় ৬৬ শতাংশ জুড়ে রয়েছে। ভারতের ইলেকট্রনিক্স আমদানির প্রায় ৪৩ শতাংশ এবং যন্ত্রপাতি ও কম্পিউটার আমদানির প্রায় ৪০ শতাংশ চিন থেকে আসে। ফলে এগুলি শুধুমাত্র ভোগ্যপণ্য নয়, দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ব্যবস্থারও গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
আরও পড়ুন: বিহু থেকে গরবা, সাত বছর পর শি জিনপিংকে বর্ণময় অভ্যর্থনা ভারতের
খনিজের জন্য চিনের উপর নির্ভরতা
শুধু শিল্পপণ্য নয়, ছ’টি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত খনিজের ৪০ শতাংশেরও বেশি চিন থেকে আমদানি করে ভারত। এর ফলে পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি, বৈদ্যুতিক গাড়ি (EV) এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারতের সরবরাহ ব্যবস্থা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
GTRI-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিন যদি কোনও কারণে ভারতে এই গুরুত্বপূর্ণ খনিজগুলির রপ্তানি আটকে দেয়, তাহলে সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হতে পারে। তাই মোদী-শি বৈঠকে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প উপকরণ ও কাঁচামালের সরবরাহকে আরও স্থিতিশীল করার বিষয়টিও গুরুত্ব পেতে পারে।
দেখুন: ভারত-ইরানের সাংস্কৃতিক ও জনসংযোগের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা দুই রাষ্ট্রপতির
Leave a Comment