নগর পরিকল্পনা ও উন্নয়ন নিয়েও দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে আলোচনা হয়েছে। উজবেকিস্তান বর্তমানে ‘নিউ তাসখন্দ’ নামে একটি নতুন শহর গড়ে তুলছে। এই প্রকল্পের প্রসঙ্গে ভারতের গুজরাতের ‘গিফট সিটি’-র উদাহরণ তুলে ধরেন মোদী। আধুনিক নগর পরিকল্পনা, পরিকাঠামো এবং আর্থিক পরিষেবা ক্ষেত্রে গিফট সিটির অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে উজবেকিস্তানের একটি প্রতিনিধিদলকে ভারতে আসার আমন্ত্রণও জানান তিনি। ফলে দুই দেশের সহযোগিতার পরিধি যে শুধু বাণিজ্য বা কূটনীতিতে সীমাবদ্ধ থাকছে না, নগর উন্নয়নেও তা প্রসারিত হচ্ছে।
সফরের আরও একটি উল্লেখযোগ্য ঘোষণা ভারতীয় নাগরিকদের জন্য। উজবেকিস্তান জানিয়েছে, ভারতীয়রা সে দেশে গেলে ৩০ দিন পর্যন্ত ভিসা ছাড়াই থাকতে পারবেন। পর্যটন এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। বর্তমানে ভারত ও উজবেকিস্তানের মধ্যে ১৪টি সরাসরি বিমান চলাচল করে। ভিসামুক্ত প্রবেশের সুবিধা চালু হলে দুই দেশের মানুষের যাতায়াত আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
সম্মান গ্রহণ করে মোদী বলেন, এই স্বীকৃতি তাঁর কাছে অত্যন্ত গর্বের। তবে তিনি পুরস্কারটিকে ব্যক্তিগত সম্মান হিসেবে না দেখে ১৪০ কোটি ভারতবাসী এবং ভারত-উজবেকিস্তানের বন্ধুত্বকে উৎসর্গ করেন। ‘দোস্তলিক’ শব্দের অর্থ বন্ধুত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সম্মান দুই দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস, ভালোবাসা ও বন্ধুত্বের প্রতীক।
সফরের শুরুতেই তাসখন্দে প্রবাসী ভারতীয়দের উষ্ণ অভ্যর্থনা পান প্রধানমন্ত্রী (Narendra Modi)। ভারতীয় সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও অংশ নেন তিনি। কত্থক এবং আন্দিজান পোলকা নৃত্য পরিবেশনের পাশাপাশি উজবেকিস্তানের খুদে শিল্পীদের জনপ্রিয় ভারতীয় গান ‘উড়ে জব জব জুলফে তেরি’-র সঙ্গে নৃত্য পরিবেশনও নজর কাড়ে। মোদী জানান, প্রবাসী ভারতীয়রা দুই দেশের মধ্যে সেতুবন্ধনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
সব মিলিয়ে ইউরেনিয়াম সরবরাহ, বাণিজ্য বৃদ্ধি, নগর পরিকল্পনা, পর্যটন এবং ভিসামুক্ত যাতায়াত—একাধিক ক্ষেত্রে নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ভারত-উজবেকিস্তান সম্পর্ক আরও গভীর করার বার্তা দিয়েছে এই সফর। পাশাপাশি উজবেকিস্তানের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান মোদীকে প্রদান দুই দেশের কৌশলগত ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের গুরুত্বকেও সামনে নিয়ে এল।
Leave a Comment