বৃহস্পতিবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসের বিলবোর্ড খোলা নিয়ে তুলকালাম পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। কলকাতা পুরসভার অফিসাররা পুলিশ নিয়ে অভিষেকের অফিসের বিলবোর্ড খুলতে গিয়েছিলেন। ওই বিল বোর্ড বেআইনি বলেই অভিযোগ। এই নিয়ে মামলা গড়ায় কলকাতা হাইকোর্টে। আর শুক্রবার এই সবকিছুর জবাব দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মঞ্চ থেকে ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসের বিল বোর্ড খোলা প্রসঙ্গ উত্থাপন করলেন তিনি।
এদিকে রাখিবন্ধন উৎসব এবং তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসে ক্যাথেড্রাল রোডের জনসভায় দাঁড়িয়ে বিজেপি এবং পুলিশের ভূমিকার বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন অভিষেক। এখানের মঞ্চ থেকেই ডায়মন্ডহারবারের সাংসদের কড়া বার্তা, ‘বিজেপিকে বলব অত্যাচার ততটাই করুন, যতটা সহ্য করার ক্ষমতা রয়েছে। গতকাল অবৈধভাবে আমাদের পার্টি অফিসের বিলবোর্ড, সাইনবোর্ড খুলতে এসেছিল। গোটা কলকাতা পুলিশ লাগিয়ে দিয়েছে, একটা সাইনবোর্ড খুলবে বলে।’
অন্যদিকে মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি বলে তোপ দাগেন অভিষেক। মহিলাদের মাসে ৩ হাজার টাকা অন্নপূর্ণা যোজনার প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা রাখা হয়নি বলে অভিযোগ তাঁর। আর এই প্রসঙ্গেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোপ, ‘ছোটবেলায় মা ঠাকুমারা বলতেন লোভে পাপ, আর পাপে মৃত্যু। আজকে কাতরাচ্ছেন, আর শুভেন্দু অধিকারী বলছেন, আমরা ২০৮। আমি শুভেন্দু অধিকারীকে মনে করিয়ে দিই বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ২০০৬ সালে কলকাতা থেকে বলেছিল আমরা ২৩৫ ওরা ৩০। বাকি পাঁচ বছরে সিপিএমকে জীবাশ্ম করে দিয়েছিল বাংলার মানুষ। আপনারও শেষের শুরু হয়ে গিয়েছে।’
তাছাড়া প্রতিপক্ষ রাজনীতি ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো ভুয়ো প্রচারকে নিশানা করেন ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ। দলের বেইমানদের তৃণমূলে না ফেরানোর কড়া বার্তা আবার দেন তিনি। এই মঞ্চ থেকেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সুর সপ্তমে তুলে বলেন, ‘আপনারা অনেকেই অনেক খবর দেখছেন। কিন্তু যত দিন না আমার মৃতদেহ দেখছেন এবং তার ওপর জোড়াফুলের পতাকা দেখছেন, কোনও কথা বিশ্বাস করবেন না। জব তক ম্যায় মরা নেহি, তব তক ম্যায় হারা নেহি। বিজেপি যে অহংকার, দম্ভ দেখিয়েছে তাতে বাকি পাঁচ বছর পর দূরবীন দিয়ে খুঁজে পাওয়া যাবে না। শেষ কথা পুলিশ বা বিজেপির নেতারা বলে না। বলে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। আর উপরওয়ালা দেখছেন, উপরওয়ালা ছাড় দেয়, ছেড়ে দেয় না। সকলকে বুক চিতিয়ে লড়াই করতে হবে। আমেরিকা পালিয়ে যাওয়ার খবর পরিবেশন করা সংবাদমাধ্যমের মালিকের ২২ হাজার কোটি টাকার ঋণ কেন্দ্র এনসিএলটি-এর মাধ্যমে মকুব করেছে। আমায় গালাগালি করার জন্য ২২ হাজার কোটি টাকা মকুব! ভাই, আমার এত দাম জানা ছিল না।’
Leave a Comment