নজরবন্দি ব্যুরো: সংসদের চলতি অধিবেশনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিল ঘিরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। একদিকে ফরেন কন্ট্রিবিউশন রেগুলেশন (সংশোধনী) বিল, ২০২৬ (Foreign Contribution Regulation Amendment Bill 2026), অন্যদিকে আসন পুনর্বিন্যাস (Delimitation) সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিল। রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, প্রথম বিলটি সহজেই পাশ হলেও দ্বিতীয় বিলের জন্য বিরোধী ও আঞ্চলিক দলগুলির সমর্থন ধরে রাখা কেন্দ্রের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, আসন পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত বিল পাশ করাতে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন হবে। সে ক্ষেত্রে শুধু সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা যথেষ্ট নয়, সংসদের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন দরকার। সেই কারণেই বিভিন্ন আঞ্চলিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছে কেন্দ্র। সূত্রের দাবি, পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন শেষ হওয়ার পর থেকেই সম্ভাব্য সমর্থন নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
বিশেষ করে তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) এবং দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাঝাগম (DMK)-সহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক দলের সমর্থন পাওয়ার বিষয়টি কেন্দ্রের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। কারণ, সংবিধান সংশোধনী বিল পাশের ক্ষেত্রে এই দলগুলির ভূমিকা নির্ণায়ক হতে পারে।
অন্যদিকে, FCRA সংশোধনী বিল নিয়ে দক্ষিণ ভারতের একাধিক রাজনৈতিক দলের আপত্তির খবর সামনে এসেছে। রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, ডিএমকে (DMK), ওয়াইএসআর কংগ্রেস (YSR Congress) এবং এনসিপি (শরদ পওয়ার গোষ্ঠী) (NCP–Sharad Pawar)-সহ কয়েকটি দল বিলের কিছু প্রস্তাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। উত্তর-পূর্ব ভারতের কয়েকটি বিজেপি-সমর্থিত দলও বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বলে সূত্রের খবর।
সূত্রের দাবি, এই দলগুলির আশঙ্কা, FCRA সংশোধনী বিলকে সমর্থন করলে তাদের নিজ নিজ রাজ্যে রাজনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে। তাই তারা সংশোধনীর কিছু ধারা আরও নমনীয় করার পক্ষে মত দিচ্ছে। এনসিপি (শরদ) শিবিরের মতে, সব বিদেশি অনুদানদাতাকে একই দৃষ্টিতে দেখা উচিত নয়। অন্যদিকে ডিএমকে-র অবস্থান, বর্তমান খসড়া অনুযায়ী বিলটিকে সমর্থন করা সম্ভব নয়।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, একটি সম্ভাব্য কৌশল হতে পারে—FCRA বিলে বিরোধিতা করলেও পরে আসন পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিলে সমর্থন দেওয়া। যদিও এই বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি, বিভিন্ন রাজনৈতিক শিবিরে এমন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে সূত্রের দাবি।
এমন পরিস্থিতিতে FCRA সংশোধনী বিলের উপস্থাপনার সময়সূচি নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক সূত্রের খবর, নির্ধারিত সময়ের পরিবর্তে বিলটি পরবর্তী সপ্তাহে সংসদে আনা হতে পারে। যদিও কেন্দ্র এখনও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। ইতিমধ্যেই বিরোধী দলগুলি বিলটির বিরোধিতার ইঙ্গিত দিয়েছে।
উল্লেখ্য, এই মুহূর্তে দুই বিল নিয়েই রাজনৈতিক আলোচনা ও মতবিনিময় চলছে। সংসদে বিলগুলির চূড়ান্ত রূপ, সংশোধনী এবং ভোটাভুটির পরই পরবর্তী পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে।
Leave a Comment