ডিলিমিটেশন ও মহিলা সংরক্ষণ বিল ঘিরে কেন্দ্র-বিরোধী বৈঠক। সংসদ সূত্রের দাবি, কংগ্রেস সমর্থনের আগে দুটি শর্ত সামনে রেখেছে। যদিও বৈঠক নিয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি দুই পক্ষ।
সংসদের বাদল অধিবেশনে ডিলিমিটেশন বিল (Delimitation Bill) এবং মহিলা সংরক্ষণ বিল (Women’s Reservation Bill) ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার হয়েছে। বিরোধীদের বিক্ষোভে বুধবারও লোকসভার কার্যক্রম বারবার মুলতুবি হওয়ার মধ্যে কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু (Kiren Rijiju) বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)-র সঙ্গে বৈঠক করেন। সংসদ সূত্রের দাবি, ওই বৈঠকে বিল দুটির জন্য বিরোধী শিবিরের সমর্থন চাওয়া হয়েছিল। তবে কংগ্রেস সেই প্রস্তাবে সায় দেয়নি বলেই জানা গিয়েছে।
সংসদ সূত্রে দাবি, রাহুল গান্ধী বৈঠকে স্পষ্ট করে জানান, নির্দিষ্ট কয়েকটি বিষয় নিয়ে আগে আলোচনা না হলে কংগ্রেস ডিলিমিটেশন বিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সংশোধনী নিয়ে এগোতে রাজি নয়। যদিও এই বিষয়ে কেন্দ্র বা কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠকের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
সূত্রের দাবি অনুযায়ী, কংগ্রেস দুটি শর্ত সামনে রেখেছে। প্রথমত, রামমন্দিরের অনুদান সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে সংসদে আলোচনা করতে হবে। দ্বিতীয়ত, গত ২০ জুলাই নিট আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে পুলিশের বলপ্রয়োগের অভিযোগ নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)-কে সংসদে বিবৃতি দিতে হবে। কংগ্রেসের অবস্থান, এই বিষয়গুলির নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংসদের স্বাভাবিক কাজকর্ম চালানো কঠিন।
ডিলিমিটেশন বিল সাংবিধানিক সংশোধনের আওতায় পড়ায়, এটি পাস করাতে সংসদের উভয় কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। সেই কারণেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থন নিশ্চিত করতে শাসক জোটের তৎপরতা বেড়েছে। সরকারি সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে, প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত হলেই বিলটি সংসদে আনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। তবে চলতি বাদল অধিবেশনের সরকারি কার্যতালিকায় এখনও ডিলিমিটেশন বিল অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
সংসদীয় সূত্রের আরও দাবি, রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠকের পর কিরেন রিজিজু লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা (Om Birla)-র সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। যদিও সেই বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে বা অচলাবস্থা কাটানোর কোনও রূপরেখা তৈরি হয়েছে কি না, তা নিয়ে কোনও পক্ষই প্রকাশ্যে কিছু জানায়নি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ডিলিমিটেশন বিল পাস করাতে সরকারের সামনে এখনও সংখ্যার বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। অন্যদিকে বিরোধী শিবিরও নিজেদের অবস্থানে অনড়। ফলে আগামী দিনে সংসদের অচলাবস্থা কাটে কি না এবং এই গুরুত্বপূর্ণ বিলগুলি আদৌ বর্তমান অধিবেশনে পেশ করা হয় কি না, সেদিকেই এখন নজর জাতীয় রাজনীতির।


Leave a Comment