ঘন ঘন খেলে কি সত্যিই ‘মেটাবলিজম’ বাড়ে?

By Suman Debnath

August 5, 2026 1:00 PM

ঘন ঘন খেলে কি সত্যিই ‘মেটাবলিজম’ বাড়ে?


মেটাবলিজম বা বিপাকক্রিয়া হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে খাবারের পুষ্টি শক্তিতে রূপান্তরিত হয়—সংক্ষেপে শরীরের সব রাসায়নিক প্রক্রিয়ার সমষ্টিই মেটাবলিজম। এর গতি একেক মানুষের ক্ষেত্রে একেক রকম হয়, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা ধীর হয়ে আসে এবং মাংসপেশির পরিমাণ বেশি থাকায় পুরুষদের ক্যালোরি খরচের হার তুলনামূলক বেশি হয়। তবে প্রতি দুই-তিন ঘণ্টা পরপর কিছু খেলে মেটাবলিজম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে—এই প্রচলিত ধারণার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।


বরং শক্তিব্যয় বা ক্যালোরি পোড়ানো বাড়াতে চাইলে বারবার খাওয়ার চেয়ে শারীরিকভাবে বেশি সক্রিয় হওয়াই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। শরীরে মাংসপেশির পরিমাণ যত বেশি, ক্যালোরি পোড়ানোর হারও তত বেশি হয়, আর অতিরিক্ত চর্বি থাকলে শক্তি ব্যয় হয় কম—তাই নিয়মিত কায়িক পরিশ্রম ও শরীরচর্চাই মেটাবলিজমের কার্যকারিতা বাড়াতে সহায়ক।

আরও পড়ুন:  বিচার প্রার্থী মানুষের পক্ষে আইনজীবীদের আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান করেন- এমপি মোশাররফ


এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব বাথের মেটাবলিক ফিজিওলজির অধ্যাপক জেমস বেটস ব্যাখ্যা করেন, মানুষ যখন মেটাবলিজম বাড়ানোর কথা বলে, তখন আসলে তারা শরীরের মেটাবলিক রেট বা নির্দিষ্ট সময়ে কতটুকু শক্তি খরচ হচ্ছে সেটিকেই বোঝায়। দৈনিক শক্তি ব্যয়ের তিনটি প্রধান উৎস—বিশ্রাম অবস্থায় শরীরের শক্তি ব্যয়, খাবার হজমে ব্যয়িত শক্তি এবং শারীরিক পরিশ্রম—এর মধ্যে শারীরিক কার্যকলাপেই সবচেয়ে বেশি তারতম্য দেখা যায়। তিনি আরও বলেন, বিশ্রাম অবস্থায় শরীরের শক্তি খরচ মূলত ওজন, বয়স ও লিঙ্গের ভিত্তিতে পূর্বানুমানযোগ্য।


গবেষণা অনুযায়ী, গড়ে একজন মানুষের গৃহীত ক্যালোরির প্রায় ১০ শতাংশ খাবার হজম ও পুষ্টি শোষণে ব্যয় হয়, যাকে থার্মিক ইফেক্ট অব ফুড বলা হয়। তবে এই প্রক্রিয়ার কারণে বারবার খেলে মেটাবলিজম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়—এমন ধারণা সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুন:  যুক্তরাষ্ট্রের ১১ সামরিক বিমান ধ্বংসের দাবি ইরানের


আমার বাঙলা/ তালহা

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment