জঙ্গি-যোগের অভিযোগে গ্রেফতার হামিম মণ্ডলকে ঘিরে তদন্তে একের পর এক নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠনের পর হামিমের কাছে বিশেষ নজরদারির নির্দেশ আসে। তদন্তে উঠে এসেছে, কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ, নতুন সদস্য সংগ্রহ এবং একটি সংগঠিত নেটওয়ার্ক তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং এই অভিযোগগুলির বিচারিক সত্যতা এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF) সূত্রের দাবি, হামিম মণ্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, বিদেশে থাকা কিছু হ্যান্ডলার এবং পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই (Inter-Services Intelligence, ISI)-এর সঙ্গে যোগাযোগ থাকা ব্যক্তিদের নির্দেশে সে কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার গতিবিধির উপর নজরদারি শুরু করেছিল। তদন্তকারীরা সম্ভাব্য ষড়যন্ত্রের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছেন।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, হামিম ধীরে ধীরে নিজের একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করার চেষ্টা করছিল। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, তরুণ-তরুণীদের এই চক্রে যুক্ত করার পরিকল্পনাও ছিল। জিজ্ঞাসাবাদের সময় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ক্ষতি করার সম্ভাব্য পরিকল্পনা সম্পর্কেও কিছু তথ্য উঠে এসেছে বলে তদন্তকারী সূত্রের দাবি। যদিও এই অভিযোগগুলির সত্যতা আদালতে এখনও প্রমাণিত হয়নি।
ইতিমধ্যেই এই মামলায় একাধিক গ্রেফতারি হয়েছে। ঝাড়খণ্ড থেকে গ্রেফতার হয়েছেন হামিমের পরিচিত অর্পিতা সরকার। অন্যদিকে, সোমবার গ্রেফতার করা হয়েছে হামিমের সহযোগী বলে অভিযুক্ত আদিত্য সিং ওরফে রাজুকে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, রাজু একটি পৃথক নজরদারির পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত ছিল। এই মামলায় তাঁর নির্দিষ্ট ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
‘ডেড ড্রপ’ পদ্ধতিতে টাকা ও সিম পৌঁছত?
তদন্তে উঠে এসেছে, হামিমের কাছে অর্থ ও সিম কার্ড পৌঁছে দিতে ব্যবহার করা হত কথিত ‘ডেড ড্রপ’ (Dead Drop) পদ্ধতি। এই কৌশলে কোনও ব্যক্তির সঙ্গে সরাসরি দেখা না করে নির্দিষ্ট স্থানে টাকা বা সামগ্রী রেখে দেওয়া হয়, পরে অন্য ব্যক্তি সেখান থেকে তা সংগ্রহ করেন।
এসটিএফ সূত্রের দাবি, একাধিক হাওলা চক্রের মাধ্যমে অর্থ নির্দিষ্ট ‘ড্রপ পয়েন্ট’-এ পৌঁছে দেওয়া হত। পরে বার্তার মাধ্যমে নির্দেশ পেয়ে হামিম সেই টাকা ও সিম সংগ্রহ করত বলে তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান।
স্লিপার সেল মডেলে চলছিল নেটওয়ার্ক?
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, পুরো নেটওয়ার্কটি ‘স্লিপার সেল’ (Sleeper Cell)-এর ধাঁচে পরিচালিত হচ্ছিল। হামিমের বিভিন্ন ডিজিটাল যোগাযোগ ও কথোপকথন বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীদের সন্দেহ, পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি অন্য রাজ্যেও এই নেটওয়ার্ক বিস্তারের পরিকল্পনা ছিল। অর্পিতা সরকারের কাছেও অর্থ পৌঁছত কি না, সেই বিষয়েও তদন্ত চলছে।
গেমিং অ্যাপ থেকে পরিচয়, তারপর নজরদারির অভিযোগ
তদন্তে জানা গিয়েছে, হামিম ও আদিত্য সিংয়ের পরিচয় হয়েছিল একটি অনলাইন গেমিং অ্যাপের মাধ্যমে। এসটিএফ-এর দাবি, প্রথমে বন্ধুত্ব তৈরি করে পরে আদিত্যকে বিভিন্ন দায়িত্ব দেওয়া হয়। তদন্তকারীদের অভিযোগ, একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের উপর নজরদারির কাজেও তাঁকে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
হামিম ও অর্পিতাকে জেরা করেই আদিত্যর খোঁজ পান তদন্তকারীরা বলে সূত্রের দাবি।
এই মামলার তদন্ত এখনও চলছে। ডিজিটাল ডিভাইস, আর্থিক লেনদেন, যোগাযোগের নথি এবং সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক যোগ—সব দিকই খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থা। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সমস্ত অভিযোগই তদন্তাধীন এবং আদালতের বিচারের উপরই চূড়ান্ত সত্যতা নির্ভর করবে।
-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।
Leave a Comment