---Advertisement---

জোড়াফুল না থাকলে নতুন ‘ফুল’ প্রতীক! নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় মমতা

By Suman Debnath

August 2, 2026 3:55 PM

জোড়াফুল না থাকলে নতুন ‘ফুল’ প্রতীক! নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় মমতা

---Advertisement---


তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক জোড়াফুল নিয়ে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার আবহে বিকল্প কৌশল তৈরি করছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)-এর নেতৃত্বাধীন কালীঘাট শিবির। দলীয় সূত্রের দাবি, যদি নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে বর্তমান প্রতীক হাতছাড়া হয়, তাহলে নতুন একটি ফুল-ভিত্তিক প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামার প্রস্তুতি রয়েছে। তবে একই সঙ্গে জোড়াফুল প্রতীক ধরে রাখতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। যদিও সম্ভাব্য নতুন প্রতীক সম্পর্কে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

তৃণমূল কংগ্রেস বর্তমানে দুই অংশে বিভক্ত। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালীঘাট শিবির, অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবির। উভয় পক্ষই ভারতের নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)-এর কাছে নিজেদেরই ‘আসল’ তৃণমূল কংগ্রেস হিসেবে দাবি জানিয়েছে। সেই দাবি খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়া এখনও চলছে।

দলীয় মহলের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে প্রতীক হারালেও তিনি রাজনৈতিক লড়াই থেকে পিছিয়ে আসবেন না। এখন জানা যাচ্ছে, বিকল্প প্রতীক নিয়েও প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সূত্রের মতে, জোড়াফুলের পরিবর্তে এমন একটি প্রতীক বেছে নেওয়ার ভাবনা রয়েছে, যার সঙ্গে ‘ফুল’-এর পরিচিতি বজায় থাকবে।

তবে কালীঘাট শিবিরের বক্তব্য, জোড়াফুল প্রতীক ছেড়ে দেওয়ার প্রশ্নই নেই। আইনি পথেও লড়াই চালানো হবে। দলীয় নেতাদের মতে, এই প্রতীক শুধু একটি নির্বাচনী চিহ্ন নয়, গত প্রায় তিন দশকে তা দলের রাজনৈতিক পরিচয় এবং ভোটারদের আবেগের সঙ্গেও জড়িয়ে গিয়েছে।

তৃণমূলের মুখপাত্র ও বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস মানেই মমতা, আর মমতা মানেই তৃণমূল। আমরা সব পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই একটি ব্র্যান্ড। তিনি কোন প্রতীক নিয়ে লড়ছেন, সেটি আনুষ্ঠানিক বিষয় মাত্র।”

১৯৯৭ সালে তৃণমূল কংগ্রেস গঠনের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জোড়াফুল প্রতীক বেছে নিয়েছিলেন। সেই প্রতীক নিয়েই দল রাজ্যে ক্ষমতায় আসে এবং তিনবার সরকার গঠন করে। ফলে জোড়াফুল হারানোর সম্ভাবনা ঘিরে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক গুরুত্ব স্বাভাবিকভাবেই অনেক বেশি।

এদিকে নির্বাচন কমিশন উভয় পক্ষের কাছেই সাংগঠনিক ও আইনসভার সমর্থনের নথি চেয়েছে। কালীঘাট শিবির জানিয়েছে, তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়েছে। অন্যদিকে, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির এখনও অতিরিক্ত সময় পেয়েছে এবং প্রক্রিয়া চলছে। কমিশনের তরফে এই বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি।

প্রবীণ সাংসদ সৌগত রায় (Saugata Roy) বলেন, “আমাদের সাত দিনের মধ্যে নথি জমা দিতে বলা হয়েছিল এবং আমরা তা করেছি। কমিশনের উচিত দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া।” তবে প্রতীক হারালে কী হবে, সেই প্রশ্নে তিনি জানান, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সব পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত। প্রয়োজন হলে তিনি উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।”

এখন নজর নির্বাচন কমিশনের রায়ের দিকে। কোন শিবির ‘আসল’ তৃণমূল হিসেবে স্বীকৃতি পাবে এবং জোড়াফুল প্রতীক কার দখলে থাকবে, সেই সিদ্ধান্তই আগামী দিনের পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এই মুহূর্তে ‘প্ল্যান বি’ নিয়ে যে তথ্য সামনে এসেছে, তা দলীয় সূত্রনির্ভর; এ বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও করা হয়নি।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment