ব্রণ একটি সাধারণ ত্বকের সমস্যা, যা মূলত লোমকূপ বন্ধ হয়ে প্রদাহ সৃষ্টি হলে দেখা দেয়। মুখে ব্রণ হলে অনেকেই দ্রুত সমাধানের আশায় বিভিন্ন ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করেন। এর মধ্যে সবচেয়ে প্রচলিত ধারণাগুলোর একটি হলো ব্রণের ওপর টুথপেস্ট ব্যবহার করা। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পদ্ধতি সবসময় নিরাপদ বা কার্যকর নয়।
একসময় টুথপেস্টে ট্রাইক্লোসান, বেকিং সোডা ও হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডের মতো উপাদান থাকত, যা ব্রণের ওপর প্রয়োগ করলে সাময়িকভাবে তা শুকিয়ে যেতে পারত। এতে লালচে ভাব ও ফোলাভাব কিছুটা কমলেও সেটিকে অনেকেই ব্রণ নিরাময় বলে ধরে নিতেন। কিন্তু বাস্তবে এটি ত্বকের জ্বালাপোড়া বা ক্ষতির কারণও হতে পারে।
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, টুথপেস্ট মুখের ত্বকের জন্য তৈরি নয়। এতে থাকা কিছু রাসায়নিক উপাদান সংবেদনশীল ত্বকে শুষ্কতা, জ্বালাপোড়া, চুলকানি কিংবা অ্যালার্জির মতো সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তাই শুধুমাত্র ব্রণ শুকিয়ে যাওয়ার দৃশ্যমান পরিবর্তনকে কার্যকর চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়।
২০১৪ সালে ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব কেমিক্যাল অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যাল অ্যানালাইসিস-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় কয়েকটি জনপ্রিয় টুথপেস্ট ব্র্যান্ডের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়। গবেষণায় দেখা যায়, কিছু টুথপেস্টে থাকা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান ব্রণ সৃষ্টিকারী কিছু ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে এবং হোয়াইটহেড ধরনের ব্রণ সাময়িকভাবে শুকাতে সাহায্য করতে পারে।
তবে গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, টুথপেস্টকে ব্রণের নিরাপদ ও কার্যকর চিকিৎসা হিসেবে ধরা উচিত নয়। বিশেষ করে হোয়াইটেনিং টুথপেস্টে থাকা শক্তিশালী ব্লিচিং উপাদান ত্বকে জ্বালাপোড়া ও অস্বস্তির কারণ হতে পারে। তাই ব্রণের সমস্যায় নিজে নিজে টুথপেস্ট ব্যবহারের পরিবর্তে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী উপযুক্ত স্কিনকেয়ার বা ওষুধ ব্যবহার করাই বেশি নিরাপদ।
আমার বাঙলা/ তালহা
Leave a Comment