ভারতের (India) শ্রীলঙ্কা (Sri Lanka) সফরের টেস্ট দল ঘোষণার পর সবচেয়ে বড় চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছেন মহম্মদ শামি (Mohammed Shami)। দীর্ঘদিন পর পুরোপুরি ফিট হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করলেও জাতীয় দলে জায়গা পেলেন না বাংলার অভিজ্ঞ পেসার। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ক্রিকেট মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের প্রশ্ন, নির্বাচকদের এই বার্তা কি শামির আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন ইঙ্গিত দিচ্ছে?
জাতীয় দলে ফেরার জন্য যা যা প্রয়োজন ছিল, তার প্রায় সবই করেছিলেন শামি। চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরেছেন, ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন এবং ঘরোয়া ক্রিকেটেও ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফরম্যান্স করেছেন। তবুও নির্বাচকদের আস্থা ফিরে পাননি তিনি। ফলে স্পষ্টভাবেই মনে করা হচ্ছে, ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট এখন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
সূত্রের দাবি, আগামী কয়েক বছরের কথা মাথায় রেখে ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন প্রজন্মের ফাস্ট বোলারদের গড়ে তোলার রূপরেখা তৈরি হয়েছে। সেই কারণেই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের পরিবর্তে তরুণ পেসারদের ধারাবাহিক সুযোগ দেওয়ার নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। শ্রীলঙ্কা সফরের দল নির্বাচনেও তারই প্রতিফলন দেখা গিয়েছে।
জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার পর হতাশ হয়ে না বসে থেকে নিজের পারফরম্যান্স দিয়েই জবাব দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন শামি। রঞ্জি ট্রফি (Ranji Trophy)-তে তিনি ৩৭টি উইকেট তুলে নির্বাচকদের নজর কাড়ার চেষ্টা করেন। পাশাপাশি একাধিকবার জানিয়েছিলেন, তিনি সম্পূর্ণ ফিট এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার জন্য প্রস্তুত। কিন্তু এত কিছুর পরও তাঁর ভাগ্যে জাতীয় দলের জার্সি জোটেনি।
ক্রিকেট মহলের একাংশের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র বর্তমান ফর্মের ভিত্তিতে নয়, বরং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ। একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভারতীয় নির্বাচকরা ইতিমধ্যেই সব ফরম্যাট মিলিয়ে প্রায় ১৫ জন তরুণ ফাস্ট বোলারের একটি তালিকা তৈরি করেছেন। আগামী বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ (World Test Championship) এবং ২০২৭ সালের একদিনের বিশ্বকাপ (ICC Cricket World Cup 2027)-কে সামনে রেখেই এই পেসারদের গড়ে তোলার পরিকল্পনা চলছে।
বর্তমানে ভারতের পেস আক্রমণের প্রধান ভরসা জসপ্রীত বুমরাহ (Jasprit Bumrah)। তবে তাঁর ওয়ার্কলোড নিয়ন্ত্রণে রাখতে নির্বাচকরা বিকল্প পেস আক্রমণ তৈরি করতে চাইছেন। সেই কারণেই ধারাবাহিকভাবে নতুন মুখদের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে শামির নাম দলে না থাকা মানেই তাঁর আন্তর্জাতিক কেরিয়ার শেষ—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো এখনও তাড়াহুড়ো হবে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI) বা নির্বাচকদের পক্ষ থেকে শামির ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। ফলে জাতীয় দলে তাঁর প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
তবে এটুকু স্পষ্ট, শ্রীলঙ্কা সিরিজে তাঁকে উপেক্ষা করার মাধ্যমে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট ভবিষ্যতের পেস আক্রমণ গড়ে তোলার রাস্তাতেই এগোচ্ছে। এখন দেখার, অভিজ্ঞতার জোরে মহম্মদ শামি আবারও নির্বাচকদের সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেন কি না, নাকি ভারতীয় ক্রিকেটে সত্যিই শুরু হয়ে গেল নতুন প্রজন্মের যুগ।
Leave a Comment