---Advertisement---

নন্দীগ্রামে ভোটের প্রচারে নামতে পারবেন মিলন প্রধান? অন্তর্বর্তী জামিন মামলার শুনানি শেষে রায় স্থগিত হাইকোর্টে

By Suman Debnath

September 25, 2026 5:40 PM

নন্দীগ্রামে ভোটের প্রচারে নামতে পারবেন মিলন প্রধান? অন্তর্বর্তী জামিন মামলার শুনানি শেষে রায় স্থগিত হাইকোর্টে

---Advertisement---


নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের আগে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে অন্তর্বর্তী জামিন দেওয়ার আর্জি জানানো হল কলকাতা হাই কোর্টে। শুক্রবার বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে তাঁর হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী মিলন মুখোপাধ্যায়। আগামী ১২ অক্টোবর পর্যন্ত অন্তর্বর্তী জামিনের আবেদন করা হয়েছে। আদালত চাইলে প্রয়োজনীয় যে কোনও শর্ত আরোপ করতে পারে বলেও জানান তাঁর আইনজীবী।

মিলন প্রধান ইতিমধ্যেই নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। কিন্তু একাধিক মামলায় অভিযুক্ত থাকায় বর্তমানে তিনি নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে পারছেন না বলে আদালতে জানান তাঁর আইনজীবী। আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন এবং ৯ অক্টোবর ভোটগণনা হওয়ার কথা। নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দিতেই নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অন্তর্বর্তী জামিন চাওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

এই আবেদনের বিরোধিতা করেছে রাজ্য। সরকারি আইনজীবীর দাবি, দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পর এখন নির্বাচনের অজুহাতে আইনি প্রক্রিয়া এড়ানোর চেষ্টা করছেন মিলন প্রধান। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর ফৌজদারি মামলা রয়েছে বলেও আদালতে জানানো হয়।

শুনানিতে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ জানতে চান, মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করার ক্ষেত্রে কী কী উপাদান বা কারণ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মামলাগুলিতে মোট কত জন অভিযুক্ত ছিলেন, সেই তথ্যও জানতে চান বিচারপতি।

রাজ্যের তরফে জানানো হয়, মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ছ’জন জামিন পেয়েছেন, ১২ জন এখনও জামিন নেননি। ২০১৫ সালে সাত জন জামিন পেয়েছিলেন বলেও আদালতে জানানো হয়। পরবর্তী সময়ে কয়েক জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ফের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয় এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি রাজ্যের।

শুনানিতে একাধিক নথির প্রসঙ্গও ওঠে। রাজ্যের বক্তব্য, ২০১৯ সালের ২০ জুন নন্দীগ্রামের পুলিশ সুপারের তরফে সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী আধিকারিককে চার্জশিট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ২০২০ সালের ১৮ মে হলদিয়া আদালতে হাজির হওয়ার কথা থাকলেও মিলন প্রধান হাজির হননি বলে দাবি করা হয়।

এর পর ২০২২ সালের ১৯ আগস্ট মিলন প্রধানের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছিল বলে জানায় রাজ্য। ২০২৪ সালে সেই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগের কথাও শুনানিতে উল্লেখ করা হয়। ২০১৮ সালে নন্দীগ্রামের একটি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল বলেও জানানো হয়।

এছাড়াও ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসা সংক্রান্ত একটি জনস্বার্থ মামলায় মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রসঙ্গও শুনানিতে ওঠে। এর আগে তাঁর করা একটি আবেদন প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ খারিজ করেছিল বলেও আদালতে জানানো হয়।

রাজ্যের আরও দাবি, মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে একাধিক খুনের মামলা রয়েছে এবং অন্তত ১০টি মামলায় চার্জশিট জমা পড়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলির গুরুত্বের কথাও আদালতের সামনে তুলে ধরে রাজ্য।

অন্য দিকে, মিলন প্রধানের আইনজীবীর বক্তব্য, তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলির আইনি বিষয় আদালত পরবর্তী সময়ে বিস্তারিতভাবে বিচার করতে পারে। কিন্তু নির্বাচনের সময় একজন প্রার্থী হিসেবে মানুষের কাছে পৌঁছনোর সুযোগ থাকা প্রয়োজন। সেই কারণেই নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অন্তর্বর্তী জামিনের আবেদন করা হয়েছে।

এত দিন মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে থাকা চারটি মামলায় জামিনের আবেদন করা হয়েছিল। শুক্রবার আরও দু’টি মামলায় জামিনের আবেদন করা হয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়।

দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পর মামলার রায় স্থগিত রেখেছেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। আগামী সোমবার এই মামলায় রায় ঘোষণা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। ফলে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের আগে এখন নজর হাই কোর্টের সিদ্ধান্তের দিকে—মিলন প্রধান অন্তর্বর্তী জামিন পান কি না এবং জামিন পেলে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান কি না, সেটিই দেখার।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment