২১ জুলাইয়ের রাজনৈতিক কর্মসূচিকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক আবহ ক্রমেই উত্তপ্ত হচ্ছে। এরই মধ্যে প্রাক্তন শাসকদলের দুই শিবিরের সংঘাত নতুন মাত্রা পেল। রবিবার রাতে ফেসবুক লাইভে এসে কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। পাশাপাশি দলের শীর্ষ নেতৃত্বকেও সতর্কবার্তা দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে।
ফেসবুক লাইভে মদন মিত্র বলেন, তাঁকে ভয় দেখিয়ে বা চাপ সৃষ্টি করে কোনও লাভ হবে না। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ করে তিনি দাবি করেন, তিনি কোনও ধরনের রাজনৈতিক চাপের কাছে মাথা নত করবেন না।
‘আমাকে ধমকে লাভ হবে না’, অভিষেককে বার্তা
লাইভে মদন মিত্র বলেন, ডায়মন্ড হারবারের রাজনৈতিক মডেল দেখিয়ে তাঁকে ভয় দেখানোর চেষ্টা সফল হবে না। নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি দাবি করেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি মানুষের সমর্থন পেয়েছেন এবং সেই অভিজ্ঞতার জোরেই এখনও রাজনীতিতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
নিজের অতীতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় কারাবাসের পরও ভোটে জয় পেয়েছেন এবং কোনও চাপের কাছে নতি স্বীকার করেননি।
একাধিক গুরুতর অভিযোগ
ফেসবুক লাইভ চলাকালীন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগও তোলেন মদন মিত্র। তাঁর বক্তব্যে ব্যবহৃত ভাষা ঘিরেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। যদিও এই অভিযোগগুলির পক্ষে তিনি কোনও প্রমাণ প্রকাশ করেননি এবং অভিযুক্ত পক্ষের তরফেও এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।
শিবির বদলের পর আরও আক্রমণাত্মক মদন
সম্প্রতি মদন মিত্র দলীয় শিবির পরিবর্তন করেছেন। গত সপ্তাহে বিধানসভায় বিরোধী শিবিরের নেতাদের সঙ্গে দেখা যাওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে তা নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়। তখন তিনি বিষয়টিকে স্বাভাবিক বলেই ব্যাখ্যা করেছিলেন। তবে রবিবারের ফেসবুক লাইভে তাঁর বক্তব্যে আগের তুলনায় অনেক বেশি আক্রমণাত্মক সুর শোনা যায়।
২১ জুলাই ঘিরে অশান্তির আশঙ্কা
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণের পাশাপাশি ২১ জুলাইয়ের রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মদন মিত্র। তাঁর দাবি, দুই শিবিরের পৃথক কর্মসূচির কারণে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে পারে।
তিনি নেতৃত্বকে সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অতিরিক্ত উত্তেজনা তৈরি হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। তাই সকল পক্ষেরই দায়িত্বশীল আচরণ করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
২১ জুলাইয়ের আগে মদন মিত্রের এই বিস্ফোরক মন্তব্যে রাজ্যের রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হয়েছে। তবে তাঁর তোলা অভিযোগ ও আশঙ্কা নিয়ে এখনও পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট পক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। ফলে এই বিতর্ক আগামী দিনে আরও রাজনৈতিক গুরুত্ব পেতে পারে।
Leave a Comment