---Advertisement---

অভিষেকের আমতলার কার্যালয় ভাঙায় অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ হাই কোর্টের

By Suman Debnath

July 19, 2026 3:05 PM

অভিষেকের আমতলার কার্যালয় ভাঙায় অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ হাই কোর্টের

---Advertisement---


ডায়মন্ড হারবারের আমতলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতর ভাঙার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গুরুত্বপূর্ণ অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট। রবিবার জরুরি শুনানির পর বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরী নির্দেশ দেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ওই ভবনের বর্তমান অবস্থাই বজায় রাখতে হবে। অর্থাৎ, নতুন করে ভবনের কোনও অংশ ভাঙা বা সেখানে নতুন কোনও নির্মাণ করা যাবে না। তবে প্রশাসনের ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হওয়া ভাঙার কাজে আদালত এই পর্যায়ে হস্তক্ষেপ করেনি।

জরুরি শুনানিতে ভবনের মালিকানা সংস্থা লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস-এর পক্ষে আইনজীবী কিশোর দত্ত দাবি করেন, ভবন ভাঙার আগে প্রকৃত মালিককে শুনানির জন্য কোনও নোটিস দেওয়া হয়নি। তাঁর বক্তব্য, সংস্থার এক ডিরেক্টরের নামে নোটিস পাঠানো হলেও ভবনের মালিক হিসেবে সংস্থাকে যথাযথভাবে শুনানির সুযোগ দেওয়া হয়নি। এছাড়া অভিযোগের কপি, ভাঙার নির্দেশের কপি কিংবা পর্যাপ্ত সময়— কোনওটিই দেওয়া হয়নি বলে আদালতে দাবি করা হয়।

আরও পড়ুন:  কলকাতা-সহ দক্ষিণের বিভিন্ন জেলায় বজ্রপাত ও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস

আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, ৮ জুলাই নোটিস পাঠিয়ে ১৫ জুলাই শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছিল। এত কম সময়ের মধ্যে যথাযথ প্রস্তুতির সুযোগও মেলেনি। তাঁর আরও দাবি, কোনও নির্মাণ অবৈধ বলে মনে হলে আইনি প্রক্রিয়া অনুসারে প্রথমে মালিককে নিজে তা অপসারণের সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল। সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলেই আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের পক্ষে আদালতে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট ভবনটি অনুমোদিত নকশা ছাড়া নির্মিত হয়েছিল। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে নিয়ম মেনেই নোটিস পাঠানো হয়েছিল এবং নির্ধারিত শুনানিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষ হাজির না হওয়ায় প্রশাসন আইনানুগ পদক্ষেপ নিয়েছে।

শুনানির সময় বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরী প্রশ্ন তোলেন, জেলা পরিষদের জারি করা নোটিস সম্পর্কে প্রকৃত জমির মালিক অবগত ছিলেন কি না। এই প্রশ্নের প্রেক্ষিতেই আদালত আপাতত স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেয়।

আরও পড়ুন:  ছুটির দিনেও ভিজবে মহানগরী! উত্তরবঙ্গে কি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে?

প্রসঙ্গত, শনিবার সকালে পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং প্রশাসনের উপস্থিতিতে আমতলার ওই পাঁচতলা ভবনের একাংশ ভাঙার কাজ শুরু হয়। প্রশাসনের দাবি ছিল, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে বেআইনি নির্মাণের প্রমাণ মেলার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, তাঁর দলের প্রতিনিধিরা শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন এবং অভিযোগের নথি চাইলেও তা দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, ভবনটি সমস্ত নিয়ম মেনেই বৈধ অনুমোদন অনুযায়ী নির্মিত হয়েছিল।

এই মামলার পরবর্তী শুনানিতে আদালত কী পর্যবেক্ষণ করে এবং ভবনের বৈধতা ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল এবং প্রশাসনের।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment