দমদম বিমানবন্দরের দ্বিতীয় রানওয়ে সম্প্রসারণকে কেন্দ্র করে বাঁকড়া মসজিদ বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। শুক্রবার জুম্মার নামাজ উপলক্ষে মসজিদে যাওয়ার ঘোষণা করেছেন জমিয়ত উলেমা-এ-হিন্দের পশ্চিমবঙ্গের সভাপতি সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী। তাঁর দাবি, কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, বিমানবন্দর চত্বর ও আশপাশে নিরাপত্তা জোরদারের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী জানান, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ তিনি এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ ব্যাজ পরে শান্তিপূর্ণভাবে জুম্মার নামাজ আদায় করতে যাবেন। তাঁর বক্তব্য, কোনও মিছিল, রাস্তা অবরোধ, মাইকিং বা ধর্নার পরিকল্পনা নেই। কেবল ধর্মীয় প্রার্থনা সম্পন্ন করাই তাঁদের উদ্দেশ্য।
সিদ্দিকুল্লাহর দাবি, এয়ারপোর্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়ার একটি পুরনো সরকারি নথিতে ওই মসজিদে নামাজ ও রমজানে ইফতারের অনুমতির উল্লেখ রয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি নিয়ে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করা হলেও সাড়া মেলেনি। তবে আইন মেনেই কর্মসূচি পালন করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
এদিকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এই ইস্যুকে ধর্মীয় নয়, বরং নিরাপত্তা ও অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয় বলে দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট স্থানে অন্য কোনও ধর্মীয় স্থাপনাও থাকলে একই নীতিই প্রয়োগ করা হতো।
উল্লেখ্য, দমদম বিমানবন্দরের দ্বিতীয় রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পের জন্য বাঁকড়া মসজিদ স্থানান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সরকারি সূত্রের দাবি, রানওয়ের খুব কাছাকাছি অবস্থানের কারণে আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তা মানদণ্ড বজায় রাখতে এই পদক্ষেপ প্রয়োজন। প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমানে ওই স্থানে নিয়মিত নামাজও বন্ধ রয়েছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিধি অনুযায়ী রানওয়ের নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে স্থায়ী কাঠামো থাকা উচিত নয়। তাঁদের বক্তব্য, বাঁকড়া মসজিদ দ্বিতীয় রানওয়ের খুব কাছাকাছি অবস্থিত এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও কিছু বাস্তব সমস্যা তৈরি করছে। তবে এই দাবি নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
শুক্রবারের ঘোষিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করা হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে। এখন নজর, আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতির সমাধান হয়, নাকি নতুন করে এই বিতর্ক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মাত্রা পায়।
Leave a Comment