---Advertisement---

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রত্যাখ্যান করে বিরোধী দলের ‘না’ ভোট

By Suman Debnath

July 12, 2026 2:30 AM

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রত্যাখ্যান করে বিরোধী দলের ‘না’ ভোট

---Advertisement---


‘অবাস্তবায়নযোগ্য ও অস্বচ্ছ’: ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রত্যাখ্যান করে বিরোধী দলের ‘না’ ভোট


বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরের চূড়ান্ত বাজেটকে ‘অপরিকল্পিত, অস্বচ্ছ ও অবাস্তবায়নযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে সংসদের বিরোধী দল।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) বাজেট পাসের পর সংসদ ভবন চত্বরে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিরোধী দলের মুখপাত্র ও জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান তাদের এই ‘না’ ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত ও কারণ গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশের জনগণের স্বার্থে তারা সংসদে গঠনমূলক ভূমিকা রাখলেও বাজেটের মূল কাঠামোগত সমস্যাগুলো দূর না হওয়ায় এই বাজেট তারা সমর্থন করতে পারেননি।

বিরোধী দলের মুখপাত্র দাবি করেন, সংসদে তাদের তীব্র আপত্তি ও রাজনৈতিক চাপের মুখে সরকার বাজেট থেকে বেশ কয়েকটি গণবিরোধী প্রস্তাব সংশোধন বা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছে। উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনগুলো হলো সাধারণ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের স্বস্তিতে এই কর বাতিল করা হয়েছে। আবাসন খাতে প্রশ্নাতীতভাবে কালোটাকা সাদা করার বিতর্কিত বিধানটি বাদ দেওয়া হয়েছে। এই আইনের একটি বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত বিধান বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:  এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ১৫ শতাংশ বাড়িভাড়া আজ থেকে কার্যকর

বাজেটের সামষ্টিক অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে বিরোধী দল। তাদের মতে, বর্তমান ভঙ্গুর ব্যাংকিং খাত থেকে সরকারের ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা একেবারেই বাস্তবসম্মত নয়।

“সরকার একদিকে মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার কথা বলছে, অন্যদিকে দেদারসে টাকা ছাপানো ও ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নেওয়ার নীতি বজায় রাখছে। এই স্ববিরোধী নীতির ফলে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ মারাত্মকভাবে সংকুচিত হবে এবং বিনিয়োগ থমকে যাবে।” — নাজিবুর রহমান, বিরোধী দলের মুখপাত্র

সংসদীয় কার্যপ্রণালি বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে বিরোধী দল জানায়, নিয়ম অনুযায়ী যেকোনো বিল উত্থাপনের অন্তত তিন দিন আগে সদস্যদের কাগজপত্র দেওয়ার কথা থাকলেও, বর্তমানে বিল উত্থাপনের দিনই তা হাতে দেওয়া হচ্ছে। এতে আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া দুর্বল হচ্ছে।

আরও পড়ুন:  পরিবেশ মেলা ও জাতীয় বৃক্ষমেলার উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

তাছাড়া, সদ্য পাস হওয়া ‘জুয়া প্রতিরোধ’ আইনকে স্বাগত জানালেও এর একটি বিশেষ ধারা নিয়ে আপত্তি তুলেছে তারা। আদালতের আগাম অনুমতি ছাড়াই পুলিশকে যেকোনো কম্পিউটার বা সার্ভার জব্দ করার যে ঢালাও ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, তা নাগরিক অধিকারের পরিপন্থী বলে মনে করে বিরোধী দল। একই সঙ্গে, বহুল আলোচিত ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের জন্য বাজেটে কোনো কার্যকর বা সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ রাখা হয়নি বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment