হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা এবং ইরান-আমেরিকার পাল্টাপাল্টি সামরিক অভিযানের আবহে বিস্ফোরক মন্তব্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ বলে জানিয়ে ইরানের সঙ্গে ভবিষ্যৎ শান্তি আলোচনার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিলেন তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যে ফের যুদ্ধের আশঙ্কা। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ বলে ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা করে বিশেষ লাভ হবে বলে তাঁর মনে হয় না।
মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালির কাছে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা সামনে আসে। মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, এই হামলার নেপথ্যে রয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)। আক্রান্ত জাহাজগুলির মধ্যে একটি ভারতমুখী ছিল বলেও দাবি করা হয়েছে।
এর পর স্থানীয় সময় বুধবার ভোরে ইরানের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন হামলার খবর সামনে আসে। পাল্টা জবাবে আইআরজিসি বাহরিন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে। ইরানের বক্তব্য, কুয়েতের আল সালেম এবং বাহরিনের সলমন এয়ারবেসে হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবিও করেছে তারা।
এই ঘটনার পর বাহরিন ও কুয়েতের বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বাজতে শুরু করে। কুয়েত সরকার অবশ্য জানিয়েছে, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ হামলা প্রতিহত করেছে এবং পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে।
এই আবহেই ট্রাম্প ইরানের নেতৃত্বের কড়া সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং পারমাণবিক অস্ত্র হাতে পেলে তা ব্যবহার করত। শান্তি আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুই দেশের প্রতিনিধিরা চাইলে আলোচনা চালাতে পারেন, তবে তাঁর মতে এই মুহূর্তে সেই উদ্যোগ ‘সময়ের অপচয়’ ছাড়া আর কিছু নয়।
এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাব হিসেবেই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু হয়েছে। তাদের দাবি, ইরানের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তু এবং ৬০টিরও বেশি ছোট নৌযানকে নিশানা করা হয়েছে।
অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের তেল রফতানির ক্ষেত্রে দেওয়া সাময়িক ছাড়ও প্রত্যাহারের ঘোষণা করেছে। গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত সমঝোতার ভিত্তিতে যে সীমিত লাইসেন্সের মাধ্যমে ইরানকে তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য রফতানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, সেটি বাতিল করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পরই ট্রাম্পের ‘যুদ্ধবিরতি শেষ’ মন্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
Leave a Comment