---Advertisement---

পশ্চিম থানার বড় সাফল্য: উদ্ধার ৩৫ লক্ষ টাকার স্বর্ণালংকার ও ২৫টি হারানো মোবাইল, গ্রেপ্তার ১০

By Suman Debnath

June 7, 2026 10:21 PM

পশ্চিম থানার বড় সাফল্য: উদ্ধার ৩৫ লক্ষ টাকার স্বর্ণালংকার ও ২৫টি হারানো মোবাইল, গ্রেপ্তার ১০

---Advertisement---

আগরতলা, ৭ জুন: অপরাধ দমন এবং সাধারণ মানুষের হারিয়ে যাওয়া সম্পদ উদ্ধারে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে পশ্চিম থানার পুলিশ। গোপন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য এবং ধারাবাহিক তদন্তের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ২৫টি হারানো মোবাইল ফোন এবং চুরি হওয়া বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণালংকারের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

উদ্ধারকৃত সামগ্রীগুলো আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী প্রকৃত মালিকদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হয়। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম জেলার পুলিশ সুপার নমিত পাঠক, পশ্চিম থানার আধিকারিকসহ অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তারা। দীর্ঘদিন পর নিজেদের হারিয়ে যাওয়া মূল্যবান সামগ্রী ফিরে পেয়ে খুশি ও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ৯ এপ্রিল এবং ২৩ এপ্রিল পশ্চিম থানার আওতাধীন এলাকায় সংঘটিত দুটি পৃথক চুরির ঘটনার পর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে তদন্ত শুরু করে পশ্চিম থানার একটি বিশেষ দল। তদন্ত চলাকালীন বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয় এবং প্রযুক্তির সহায়তায় সন্দেহভাজনদের গতিবিধির ওপর নজরদারি চালানো হয়।

আরও পড়ুন:  বন দপ্তরকে ম্যানেজ করেই রাজ্যজুড়ে বনাঞ্চল গাঁজাময়! বনমন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মার নীরবতায় তীব্র ক্ষোভ জনমনে!

তদন্তের এক পর্যায়ে গোপন সূত্রে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়ে পুলিশ একাধিক স্থানে অভিযান চালায়। অভিযানের ফলে চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকারের বড় একটি অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে হারিয়ে যাওয়া বা নিখোঁজ হওয়া ২৫টি মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ ছিল এবং মালিকরা সেগুলো ফিরে পাওয়ার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন।

এই বিষয়ে পুলিশ সুপার নমিত পাঠক বলেন, “দুটি পৃথক চুরির মামলার তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। পুলিশের ধারাবাহিক প্রচেষ্টা, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আমরা চুরি হওয়া স্বর্ণালংকার ও হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। একই সঙ্গে মামলাগুলোর সঙ্গে জড়িত মোট ১০ জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”

আরও পড়ুন:  তেলিয়ামুড়ায় অসহায় ছাত্র অনির্বাণ! — মায়ের মৃত্যুর পর চরম সংকটে এক কিশোরের জীবন এবং পরিবার!

তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত এখনও অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যাচাই করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

উদ্ধার হওয়া সামগ্রী প্রকৃত মালিকদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার সময় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনেকেই জানান, চুরি হওয়া স্বর্ণালংকার পরিবারের বহু বছরের সঞ্চয় ছিল। আবার হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নথি, ছবি এবং ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষিত ছিল। তাই সেগুলো ফিরে পাওয়া তাদের জন্য অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত কয়েকজন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ এবং নিষ্ঠার কারণেই তারা তাদের মূল্যবান সম্পদ ফিরে পেয়েছেন। তারা ভবিষ্যতেও অপরাধ দমনে পুলিশের এমন সক্রিয় ভূমিকা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন:  স্বল্প দামে জমি, ভাঙা প্রতিশ্রুতি—সাবরুমে বুদ্ধিস্ট ইউনিভার্সিটি ইস্যুতে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি!

পশ্চিম থানার এই সাফল্য শুধু চুরি হওয়া সম্পদ উদ্ধারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। সাম্প্রতিক সময়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনে ত্রিপুরা পুলিশের বিভিন্ন পদক্ষেপ ইতিবাচক ফল দিচ্ছে বলেও অনেকে মত প্রকাশ করেছেন।

পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ চোখে পড়লে দ্রুত নিকটবর্তী থানায় বা পুলিশের হেল্পলাইনে তথ্য দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

পশ্চিম থানার এই সফল অভিযান আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং অপরাধ দমনে পুলিশের কার্যকর ভূমিকার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন মালিকদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment