দাম্পত্য কলহ থেকে চরম সিদ্ধান্ত, পরিবারের সাতজন সদস্যকে খুন, গ্রেপ্তার ট্যাক্সিচালক

By Suman Debnath

November 6, 2026 2:10 PM

দাম্পত্য কলহ থেকে চরম সিদ্ধান্ত, পরিবারের সাতজন সদস্যকে খুন, গ্রেপ্তার ট্যাক্সিচালক


ভয়ঙ্কর কাণ্ড বেঙ্গালুরুতে। নিজের স্ত্রী-সহ সাতজনকে খুনের অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্তের নাম ইন্দুশেখর (৫২)। ইন্দুশেখর পেশায় একজন ট্যাক্সিচালক। দাম্পত্য জীবনে প্রবল অশান্তি ছিল। তার জেরে গোটা পরিবারকে খুন করে অভিযুক্ত। শুধু খুন করেই ক্ষান্ত হননি, পরিবারের সদস্যদের দেহগুলি টুকরো টুকরো করে নন্দী হিলসের গভীর জঙ্গলে ফেলে দিয়ে আসে। এই ঘটনা সামনে আসতেই তীব্র আলোড়ন ছড়িয়ে পড়েছে গোটা এলাকায়। সাতজনকে খুনের পর এক এক করে দেহ নিজের ট্যাক্সিতে করে নিয়ে গিয়ে শহরের নানা প্রান্তে তা ফেলে আসে বলে অভিযোগ।

এদিকে স্ত্রী এবং তাঁর বাপেরবাড়ির ছয় সদস্যকে খুনের অভিযোগ উঠেছে ইন্দুশেখরের বিরুদ্ধে। বেঙ্গালুরুর চিক্কাবল্লাপুরে এখন এই ঘটনাই চর্চিত হচ্ছে। হাড়হিম করা এই ঘটনা শুনে অনেকে শিউরে উঠেছেন। স্ত্রী সুনীতার সঙ্গে চন্দ্রশেখরের দাম্পত্য অশান্তি চলছিল দীর্ঘদিন ধরে। সুনীতা বাপেরবাড়ির সদস্যদের সঙ্গে প্রায়ই যোগাযোগ করতেন এবং সেখানে গিয়ে সাংসারিক অশান্তির কথা জানাতেন। আর এখান থেকেই ইন্দুশেখরের ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। তাঁর সংসারে অশান্তিতে ইন্ধন জোগাচ্ছে শ্বশুরবাড়ির লোকজন বলে মনে করত সে। আর এই সন্দেহের বশেই ইন্দুশেখরের মনে ক্ষোভ জমেছিল। তার জেরেই খুন বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:  মক্কায় বাংলাদেশি যুগলের চুম্বনের ভিডিও ভাইরাল, শিরশ্ছেদের পর উৎকণ্ঠায় মুর্শিদাবাদের পরিবার

অন্যদিকে স্থানীয় সূত্রে খবর, ২০ বছর আগে ইন্দুশেখরের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল সুনীতার। স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বাপেরবাড়ির ঘন ঘন যোগাযোগ নিয়ে প্রচণ্ড আপত্তি ছিল স্বামী ইন্দুশেখরের। আর তা নিয়েই অশান্তি লেগে থাকত তাঁদের মধ্যে। এই কারণেই ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে অনুমান। মৃতদের মধ্যে রয়েছে- শেখরের স্ত্রী সুনীতা, শাশুড়ি রূপাবতী, সুনীতার দুই ভাই শিবকুমার এবং শঙ্কর, তাঁদের দুই স্ত্রী দিব্যা ও নলিনী এবং শিবকুমারের সাতবছরের ছেলে পুনীত। এই ঘটনার জেরে ইন্দুশেখরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আর পুলিশের দাবি, ইন্দুশেখর এই সাতজনকে খুন করার কথা স্বীকার করেছে। কিন্তু কেমন করে খুন করল সে? কী পরিকল্পনা করা হয়েছিল? গোটা বিষয়টি জানতে ম্যারাথন জেরা করা হচ্ছে ইন্দুশেখর।

আরও পড়ুন:  মোদির খোঁচার পাল্টা কংগ্রেসের, বারাণসী-নাগপুরের হার নিয়ে প্রশ্ন তুলে ইভিএম ইস্যুতে চ্যালেঞ্জ

তাছাড়া অভিযুক্তকে জেরা করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, প্রথমে স্ত্রীকে খুন করে ইন্দুশেখর। খাওয়াদাওয়ার আয়োজন করে সুনীতার বাপেরবাড়ির লোকজনকে নিজের বাড়িতে ডেকে নিয়ে আসে ইন্দু। খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেয়। তাতে সকলে তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। তখন একে একে সকলকে পাথর দিয়ে থেঁতলে খুন করে ইন্দুশেখর। স্ত্রী এবং তাঁর বাপেরবাড়ির ছয় সদস্যদের দেহ গাড়িতে তুলে শহরের নানা প্রান্তে ফেলে দেয় সে। শহরের নানা জায়গা থেকে এক এক করে সাতটি দেহ উদ্ধারের খবর আসতেই আলোড়ন পড়ে যায়। দেহগুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ।

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment