সংরক্ষণের নিয়ম বদলের মাশুল কি চাকরিপ্রার্থীদের? ইডব্লিউএস সুযোগ নিয়ে পর্ষদকে হলফনামার নির্দেশ হাইকোর্টের

By Suman Debnath

November 2, 2026 6:35 PM

সংরক্ষণের নিয়ম বদলের মাশুল কি চাকরিপ্রার্থীদের? ইডব্লিউএস সুযোগ নিয়ে পর্ষদকে হলফনামার নির্দেশ হাইকোর্টের


প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া ঘিরে নতুন আইনি জট। ওবিসি-এ ও ওবিসি-বি শ্রেণিতে আবেদন করার পর যাঁরা ইডব্লিউএস বা আর্থিক ভাবে দুর্বল শ্রেণির শংসাপত্র পেয়েছেন, তাঁদের নতুন শ্রেণিতে আবেদন সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা। ১৩,৪২১টি শূন্যপদে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের এই প্রক্রিয়ায় আবেদনকারীদের দাবি, পরিস্থিতির পরিবর্তনের পরে তাঁদের ইডব্লিউএস শ্রেণিতে বিবেচনা করার সুযোগ দেওয়া উচিত। তবে সেই দাবি মানতে নারাজ পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ।

বিচারপতি অর্জুন রায় মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, মামলাটির নিষ্পত্তির জন্য দু’পক্ষের বক্তব্য জানা প্রয়োজন। সেই কারণে রাজ্য ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আপাতত মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি।

চাকরিপ্রার্থীদের পক্ষের আইনজীবী সুদীপ্ত দাশগুপ্ত জনান, ২০২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর এবং ১৯ নভেম্বরের বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে রাজ্যের সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত ও সরকার-পোষিত প্রাথমিক এবং জুনিয়র বেসিক স্কুলে ১৩,৪২১টি শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়। মামলাকারীরা সেই নিয়োগে ওবিসি-এ অথবা ওবিসি-বি শ্রেণিতে আবেদন করেছিলেন।

এর মধ্যে ২০২৬ সালের ১৮ মে রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দপ্তর ওবিসি সংক্রান্ত কয়েকটি বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করে। ৬৬টি শ্রেণিকে অন্তর্ভুক্ত করে নতুন তালিকা প্রকাশ করে। ওই তালিকার ভিত্তিতে রাজ্য সরকারি চাকরি ও পদে ৭ শতাংশ সংরক্ষণের কথা জানানো হয়। এর আগে ওবিসি সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিগুলির কার্যকারিতা স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ।

আরও পড়ুন:  পরিবার পিছু ১,২০০ টাকা পঞ্চায়েত কর? জল্পনায় ইতি, ভুয়ো খবর বলে স্পষ্ট করল রাজ্য সরকার

পরে সুপ্রিম কোর্ট সেই নির্দেশের উপর স্থগিতাদেশ দেয়। ২০২৬ সালের ১৪ জুলাই রাজ্য ও পশ্চিমবঙ্গ অনগ্রসর শ্রেণি কমিশনের দায়ের করা বিশেষ অনুমতিমূলক আবেদন প্রত্যাহার করা হয় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

মামলাকারীদের বক্তব্য, ১৮ মে-র পর এবং ১৪ অক্টোবরের আগে তাঁরা ইডব্লিউএস শংসাপত্রের জন্য আবেদন করেন। তাঁদের বার্ষিক মোট আয় বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শংসাপত্রও দেয়। তাই নতুন পরিস্থিতিতে তাঁদের ইডব্লিউএস শ্রেণিতে আবেদন সংশোধনের সুযোগ দেওয়া উচিত।

১৪ অক্টোবর ২০২৬ সালে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। তাতে আগে ওবিসি-এ বা ওবিসি-বি শ্রেণিতে আবেদন করা প্রার্থীদের ১৪ থেকে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে নিজেদের শ্রেণি সংশোধন বা পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংশোধন না করলে তাঁদের অসংরক্ষিত শ্রেণির প্রার্থী হিসেবে গণ্য করার কথা জানানো হয়।

আরও পড়ুন:  Exclusive: পাথর খাদান থেকে দৈনিক লুট ৯ কোটি টাকা, টুলু-কাণ্ডে মমতা-যোগ নিয়ে বিস্ফোরক মন্ত্রী দুধকুমার

পর্ষদের তরফে আইনজীবী সুবীর সান্যালের বক্তব্য, ১৮ মে-র বিজ্ঞপ্তি সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত। সেই সিদ্ধান্ত অনুসারেই পর্ষদ সংশোধনের সুযোগ দিয়েছিল, যাতে প্রার্থীরা ভবিষ্যতে অসুবিধায় না পড়েন। কিন্তু এখন মামলাকারীদের দাবি মেনে নেওয়া হলে কার্যত মামলার চূড়ান্ত স্বস্তিই দিয়ে দেওয়া হবে। এই মামলায় পর্ষদের তরফে হলফনামা জমা দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, মামলাকারীদের আইনজীবী সুদীপ্ত দাশগুপ্তের যুক্তি, নতুন পরিস্থিতিতে যাঁরা ইডব্লিউএস শংসাপত্র পেয়েছেন, তাঁদের সেই পরিচয়ে বিবেচনা করা পর্ষদের দায়িত্ব। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, নির্বাচন প্রক্রিয়া চলাকালীন পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে আবেদনকারীরা ইডব্লিউএস শ্রেণিতে বিবেচিত হওয়ার অধিকার দাবি করতে পারেন কি না এবং পর্ষদের তাঁদের সেই সুযোগ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে কি না, তা বিচার করে দেখতে হবে। হলফনামা ছাড়া এই প্রশ্নগুলির নিষ্পত্তি সম্ভব নয়।

আদালত নির্দেশ দিয়েছে, পুজোর ছুটির পর তিন সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা জমা দিতে হবে। তার পর এক সপ্তাহের মধ্যে জবাবি হলফনামা জমা দেওয়া যাবে। মামলার অন্তর্বর্তী সময়ে নেওয়া সমস্ত পদক্ষেপ মামলার পরবর্তী শুনানি হবে নিয়মিত বেঞ্চে।

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment