নন্দন থেকে মুছে গেল মমতার নাম, অক্ষত জ্যোতি বসুর স্মারক ফলক

By Suman Debnath

November 1, 2026 8:40 PM

নন্দন থেকে মুছে গেল মমতার নাম, অক্ষত জ্যোতি বসুর স্মারক ফলক


কলকাতার সাংস্কৃতিক চর্চার অন্যতম প্রাণকেন্দ্র নন্দন থেকে মুছে ফেলা হল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। নন্দনের বিভিন্ন ভবন, প্রদর্শনী কক্ষ এবং সংস্কারমূলক কাজের উদ্বোধন উপলক্ষে বসানো স্মারক ফলকে খোদাই করা তাঁর নাম সাদা ও ধূসর রং দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। তবে নন্দন প্রতিষ্ঠার মূল স্মারক ফলকে কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। সেখানে আগের মতোই অক্ষত রয়েছে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর নাম।

কলকাতার শিল্প, সাহিত্য ও চলচ্চিত্রচর্চার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঠিকানা নন্দন। দীর্ঘদিন ধরেই চলচ্চিত্রপ্রেমী, শিল্পী, বুদ্ধিজীবী এবং তরুণ প্রজন্মের আড্ডা ও সাংস্কৃতিক চর্চার কেন্দ্র এই চত্বর। সেই নন্দনেই এ বার বদলের ছাপ স্পষ্ট। রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর সাংস্কৃতিক পরিসরেও পরিবর্তনের এই ছবি ঘিরে শুরু হয়েছে আলোচনা।

আরও পড়ুন:  শরৎ এল রে: কলকাতায় পরিবারের সঙ্গে দুর্গাষ্টমী ও দশেরা উদযাপনে পঙ্কজ ত্রিপাঠী, শহরের সঙ্গে আত্মিক টানের কথা জানালেন অভিনেতা

 

 

১৯৮০ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর হাত ধরে নন্দনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়। ১৯৮৫ সালে বিশ্ববরেণ্য চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের হাত ধরে উদ্বোধন হয় এই সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের। পরবর্তী সময়ে রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর নন্দনের একাধিক উন্নয়ন, সংস্কার এবং নতুন প্রদর্শনী কক্ষের উদ্বোধন উপলক্ষে স্মারক ফলক বসানো হয়েছিল। সেই ফলকগুলিতেই খোদাই করা ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। এ বার সেই নামই রং দিয়ে ঢেকে দেওয়া হল।

২০২৪ সালের অগস্টে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের প্রয়াণের পর তাঁর মরদেহ শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য রবীন্দ্র সদন বা নন্দনে রাখার প্রস্তাব দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই নন্দন থেকেই এ বার তাঁর নাম মুছে দেওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন:  ‘এটা উপরওয়ালার বিচার’, দলের নাম-প্রতীক ফ্রিজ হতেই মমতাকে কটাক্ষ শমীকের

এই ঘটনায় তৃণমূলের মুখপাত্র উপাসনা চৌধুরী বলেন, “একটা স্বৈরাচারী সরকার চলছে। মুখ্যমন্ত্রী আসলে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন গত ১৫ বছরে রাজ্যে কী কী হয়েছে!”

অন্য দিকে, এ দিন নন্দনেই সাংবাদিক বৈঠক করে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের নতুন লোগো প্রকাশ করা হয়। তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের উপদেষ্টা মিঠুন চক্রবর্তী নতুন লোগোর উদ্বোধন করেন। অর্থাৎ, একই দিনে নন্দন চত্বরে একদিকে যেমন পুরনো স্মারক ফলক থেকে মুছে গেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম, অন্যদিকে তেমনই বদল এল কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের লোগোতেও।

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment