এআই-তে বিনিয়োগ বাড়লেও পিছিয়ে ভারতীয় সংস্থাগুলি!

By Suman Debnath

October 30, 2026 11:40 AM

এআই-তে বিনিয়োগ বাড়লেও পিছিয়ে ভারতীয় সংস্থাগুলি!


কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে উৎসাহ বাড়ছে ভারতীয় সংস্থাগুলির মধ্যে। বাড়ছে বিনিয়োগও। কিন্তু পরীক্ষামূলক প্রয়োগ থেকে বেরিয়ে ব্যবসার বিভিন্ন ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারে এখনও পিছিয়ে অধিকাংশ সংস্থা। অ্যাডোবের সাম্প্রতিক রিপোর্টে দাবি, সমীক্ষায় অংশ নেওয়া ভারতীয় সংস্থাগুলির মাত্র ৬.৭ শতাংশ ব্যবসার একাধিক কর্মপ্রক্রিয়ায় এআই-এর ব্যবহার ছড়িয়ে দিতে পেরেছে। অন্য দিকে, ৫৯ শতাংশ সংস্থা পরীক্ষামূলক প্রয়োগের গণ্ডি পেরোতে সমস্যায় পড়ছে।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক

ভারতের ৪৭৫ জন শীর্ষ কর্তার উপর চালানো সমীক্ষার ভিত্তিতে তৈরি এই রিপোর্টে বলা হয়েছে, ৭৭ শতাংশ সংস্থা প্রতি বছর এআই-তে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। কিন্তু ৪৪ শতাংশ সংস্থা এখনও এআই ব্যবহারের প্রথম প্রয়োগ নিয়ে কাজ করছে, অথবা ব্যর্থ প্রচেষ্টার পরে থেমে গিয়েছে। অর্থাৎ, বিনিয়োগ বাড়লেও তার সুফল ব্যবসার সর্বস্তরে পৌঁছচ্ছে না।

আরও পড়ুন:  ক্যানসার রোগীর বাঁচার সম্ভাবনা জানাবে এআই! একটি সেলফি থেকেই মিলবে মৃত্যুঝুঁকির ইঙ্গিত, দাবি গবেষকদের

রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতীয় সংস্থাগুলিতে এআই ব্যবহারের জন্য প্রস্তাবিত প্রতি ১০০টি পরিকল্পনার মধ্যে মাত্র ১৫টি বাস্তব কাজের পর্যায়ে পৌঁছয়। এর পিছনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত যাচাই। প্রায় ৩৫ শতাংশ এআই প্রস্তাব তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের মূল্যায়নেই আটকে যায়। আরও ১৭ শতাংশ নিরাপত্তা সংক্রান্ত পর্যালোচনায় বাতিল হয়। নিয়ন্ত্রিত ক্ষেত্রে কাজ করা সংস্থাগুলিতে নিরাপত্তার কারণে বাতিলের হার প্রায় দ্বিগুণ।

এআই ব্যবহারের দায়িত্ব কার হাতে থাকবে, তা নিয়েও স্পষ্টতা নেই বহু সংস্থায়। মাত্র ১৮ শতাংশ সংস্থায় এমন এআই প্রধান রয়েছেন, যাঁর বাজেট সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। এআই ব্যবহারে এগিয়ে থাকা সংস্থাগুলিতে এই হার ৯৩ শতাংশ।

বিনিয়োগের সুফল মাপার ক্ষেত্রেও ঘাটতি রয়েছে। মাত্র ১০ শতাংশ সংস্থা এআই-তে বিনিয়োগের রিটার্ন সামগ্রিক ভাবে পরিমাপ করে। পাশাপাশি, ৮২ শতাংশ সংস্থা জানিয়েছে, গত এক বছরে এআই সংক্রান্ত দক্ষতার অভাব একই রয়েছে অথবা বেড়েছে।

আরও পড়ুন:  ফোনের আসক্তি কমানোর ৭ উপায়

অ্যাডোবের বক্তব্য, এআই-কে কার্যকর করতে শুধু বিনিয়োগ যথেষ্ট নয়। স্পষ্ট দায়িত্ব বণ্টন, কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং দৈনন্দিন কাজের সঙ্গে প্রযুক্তির সংযুক্তিই পরীক্ষামূলক প্রয়োগকে বাস্তব ব্যবসায়িক সাফল্যে পরিণত করার চাবিকাঠি।

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment