মাঝরাত পর্যন্ত ম্যারাথন জেরা ইন্দ্রনীল সেনকে, পাশে দাঁড়ালেন না একদা সহকর্মী বাবুল

By Suman Debnath

October 29, 2026 11:15 AM

মাঝরাত পর্যন্ত ম্যারাথন জেরা ইন্দ্রনীল সেনকে, পাশে দাঁড়ালেন না একদা সহকর্মী বাবুল


ইডির সমনে সিজিও কমপ্লেক্সে গিয়ে বুধবার গ্রেপ্তার হন প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। দুর্গাপুজোর পাস বিক্রিকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে যে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল সেটার তদন্ত করছে ইডি। আর সেই অভিযোগেই গ্রেপ্তার করার পর তাঁকে লালবাজারে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। বউবাজার থানায় দায়ের হওয়া মামলার ভিত্তিতে তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেন-সহ কয়েকজন এবং তাঁদের সংস্থা ‘মাস আর্ট’-এর বিরুদ্ধেও মামলা শুরু হয়েছে। লালবাজার সূত্রে খবর, ইউনেস্কোর নাম, সুনাম এবং লেগো বাণিজ্যিক উদ্দেশে ব্যবহার করার অনুমোদন ‘মাস আর্টে’র ছিল না। মন্ত্রী পদের অপব্যবহার করে তথ্য সংস্কৃতি দপ্তরের অনুষ্ঠান এবং বইমেলায় কোটি কোটি টাকার টেন্ডার বেআইনিভাবে ঘনিষ্ঠদের পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে। সব মিলিয়ে প্রায় ১১৫ কোটি টাকার বেশি প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির জেরেই ইন্দ্রনীল সেনকে গ্রেপ্তার করেন গোয়েন্দরা।

পুলিশ সূত্রে খবর, মাঝরাত পর্যন্ত দফায় দফায় জেরা করা হয় ইন্দ্রনীলকে। ম্যারাথন জেরা করে কিছু তথ্য হাতে এসেছে। সেগুলির সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও নথি, ব্যয় বিষয়ক অ্যাকাউন্ট সামনে রেখে ইন্দ্রনীল সেনকে জেরা করেন গোয়েন্দারা। দীর্ঘ জেরা পর্বে তিনি একাধিক তথ্য এড়িয়ে গিয়েছেন বলে খবর। বৃহস্পতিবার ব্যাঙ্কশাল আদালতে ইন্দ্রনীলকে হাজির করে নিজেদের হেফাজতে চাইবেন গোয়েন্দারা বলে জানা গিয়েছে। ইউনেস্কোর নাম ভাঁড়িয়ে ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দুর্গাপুজোয় মাস আর্টকে সামনে রেখে কমপক্ষে ৩০ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। ইন্দ্রনীলের স্ত্রী মেয়ে, আত্মীয়র নামে থাকা বেশ কয়েকটি ভুয়ো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়েছে।

আরও পড়ুন:  মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাক, ঘটনার তদন্তে পুলিশ

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃতীয় মেয়াদে দু’জন ছিলেন মন্ত্রিসভার সদস্য এবং সহকর্মী। একজন ইন্দ্রনীল সেন, অপরজন বাবুল সুপ্রিয়। এখন গ্রেপ্তার হয়েছেন ইন্দ্রনীল। তারপরই বাবুল জানিয়ে দিলেন তিনি ইন্দ্রনীলকে সহকর্মী মনেই করেন না। যে তিক্ততার সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল দু’জনের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যাবিনেটে থাকতেই সেটা এখনও ভোলেননি বাবুল। তাই একদা সহকর্মী গ্রেপ্তার হতেই বাবুলের প্রতিক্রিয়া, ‘ইন্দ্রনীল সেনের কাজের সংজ্ঞা আমার সিলেবাসের বাইরে। অতীতে যা যা অনিয়ম বা সমস্যা আমার নজরে এসেছিল, সে বিষয়ে আমি আগেই নিজের বক্তব্য জানিয়েছিলাম। আইন অনুযায়ী সবার ক্ষেত্রে যা ব্যবস্থা নেওয়া হয়, ইন্দ্রনীল সেনের ক্ষেত্রেও তাই হওয়া উচিত।’ ইন্দ্রনীলের গ্রেপ্তারের পরই সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টও করেন বাবুল সুপ্রিয়। তবে ব্যক্তিগতভাবে কাউকে আক্রমণ করতে সেটি করেননি বলেও জানান তিনি। বাবুল স্পষ্ট করেন, ‘সন্ধ্যা থেকে একটানা প্রচুর ফোন এবং হোয়াটসঅ্যাপ আসছিল। বারবার নানা প্রশ্নের মুখে পড়ে বিরক্ত হয়েই পোস্টটি করেন। সেখানে কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়নি।’

আরও পড়ুন:  Bankipur Bypoll Result: বিজেপির হাতছাড়া হতে চলেছে বাঁকিপুর, বিহারে এক বছরের মধ্যেই উলটপুরাণ

তাছাড়া ইন্দ্রনীল সেনের মালিকালীন সংস্থা ‘অক্টে রেকর্ডস’-এর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩.৮ কোটি টাকা নগদ জমা পড়ে। অক্টেভের ওই অ্যাকাউন্ট থেকেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ৩০ লক্ষ টাকা পাঠানো হয় বলে দাবি ইডির। যদিও সেই টাকা আয়কর রিটার্নে দেখিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তবে ইন্দ্রনীল সেন গ্রেপ্তার হতেই অভিযোগকারী জয়দীপ বলেন, ‘২০২৩ সাল থেকে লড়াইয়ের ফল এবার পেলাম।’ যদিও ইন্দ্রনীল সেনের আইনজীবীর দাবি, ‘প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে সব অভিযোগ ভুয়ো। কোর্টে প্রমাণ দেব।’

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment