শুভেন্দু অধিকারীর ছেড়ে দেওয়া আসন নন্দীগ্রাম থেকে জয়ী হন হাসিরানি রথ এবং রেজিনগর থেকে জয়ী হন শাখারভ সরকার। বুধবার তাঁদের শপথগ্রহণ হয় বিধানসভায়। উপনির্বাচনে জয়ী দুই বিধায়ককে শপথবাক্য পাঠ করালেন বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু। ২০৭ থেকে এখন বিধানসভায় বিজেপির আসন সংখ্যা দাঁড়াল ২০৯। দুর্গাপুজোর পর বিধানসভায় দুই বিধায়কের শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দুই বিধায়ককেই শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তিনি। বিধানসভার নতুন সদস্য হিসেবে হাসিরানি এবং শাখারভকে অভিনন্দন ও বিজয়ার শুভেচ্ছাবার্তা দেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ও। আর এখান থেকেই নাম না করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিশ্রামের পরামর্শ দেন মুখ্যমন্ত্রী।
বুধবার বিধানসভায় এই শপথ অনুষ্ঠান থেকে তৃণমূলের দু’পক্ষকেও খোঁচা দেন মুখ্যমন্ত্রী। সংখ্যালঘুরা বিজেপিকে ভোট দিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্র এখন বিজেপির ঝুলিতে এসেছে। তাই এই দাবি করলেন শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘নন্দীগ্রামের জনগণকে ধন্যবাদ। তাঁরা অভিমান করে বলেছিল আমায়, যাতে ভবানীপুর কেন্দ্র ছেড়ে দিই। আমি বলেছি, যিনি দু’বার আমার কাছে হেরেছেন, তিনি আবার দাঁড়ানোর সুযোগ পেতেন। এই বয়সে আর না দাঁড়ানোই ভাল ওঁর। ৭৫ প্রায় বয়স। এখন বিশ্রাম নেওয়ার কথা।’ নাম না করে এভাবেই পরামর্শ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। যা নিয়ে কালীঘাট তৃণমূলের অন্দরে জোর ধাক্কা লেগেছে।
নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরে উপনির্বাচন হয়েছিল। ওই দুই কেন্দ্রের উপনির্বাচনেই বিপুল ভোটে জিতেছে বিজেপি। বুধবার বিজেপির দুই বিধায়ক শাখরভ সরকার এবং হাসিরানি রথের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান ছিল বিধানসভায়। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর দুটি কেন্দ্র থেকেই জিতেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। পরে ভবানীপুর রেখে নন্দীগ্রাম ছেড়ে দেন। সেখান থেকে এবার জিতে এসেছেন হাসিরানি রথ। তাঁর ছেলে চন্দ্রনাথ রথ নিহত হয়েছেন। যিনি শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত-সহায়ক ছিলেন। এদিন মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘আগে কার্যত আড়ালে এই শপথ গ্রহণ হয়েছে। জনগণ দেখতে চান তাঁদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথ অনুষ্ঠান। ফলতায় ১ লক্ষ ৯ হাজার ভোটে দেবাংশু পাণ্ডা জিতেছেন। পুষ্পা একদম শুয়ে পড়েছিল। আর নন্দীগ্রামে প্রার্থী মাঠ থেকে আউট হলেন। আর একজন ৬ হাজার ভোটে সীমাবদ্ধ থেকে গেলেন।’
তাছাড়া এদিন ফের বিজেপিকে ‘সংখ্যালঘু-বিরোধী’ বলে দাগিয়ে দেওয়ার ব্যাখ্যা নস্যাৎ করে দেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, ‘অনেকেই বিজেপিকে সাম্প্রদায়িক পার্টি বলে রাজনীতি করে খেয়েছেন। তাঁদের উদ্দেশে বলছি, রেজিনগরে ৭০ হাজার মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনায় উপকৃত, তাদের মধ্যে ৩৫ হাজার মহিলাই সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্য। আমরা হিন্দু, সনাতনী, কপালে টিকা ধারণ করি। কিন্তু সরকার চালানোর ক্ষেত্রে প্রয়োজনকে প্রাধান্য দেয় বিজেপি। রেজিনগরে ৩০০-র মধ্যে ২০০ সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বুথ। সেই রেজিনগরে ৭৫ হাজার মার্জিনে বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার জয় পেয়েছেন। ৬ মাসের মধ্যেই সরকার মানুষের বিশ্বাস অর্জন করে এগোচ্ছে সেটা স্পষ্ট। এই ৬ মাসে যা দেখছেন সেটা চা-বিস্কুটের সমান। এখনও ব্রেকফাস্ট লাঞ্চ বাকি। দেখতে থাকুন কীভাবে উন্নয়ন হয়। আর আমি আমার প্রতিশ্রুতি পূরণ করব হাসিরানি রথের মাধ্যমে। আমার সহযোগী হওয়ার অপরাধে চন্দ্রনাথকে খুন করা হল। শুটার, সুপারি কিলার-সহ সিবিআই ৭জনকে গ্রেপ্তার করেছে। বাকি আছে সুপারির ২ কোটি কোথা থেকে এসেছিল, সেটা জানা। ক্যামাক স্ট্রিট, কালীঘাট, না ডায়মন্ডহারবার? এটা জানতে পারলেই তদন্তের বৃত্ত সম্পন্ন হবে।’
Leave a Comment