ইন্টার্নদের ডিউটি নিয়ে টাকার দরাদরি! কাঠগড়ায় কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ

By Suman Debnath

October 26, 2026 2:20 PM

ইন্টার্নদের ডিউটি নিয়ে টাকার দরাদরি! কাঠগড়ায় কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ


অর্থের বিনিময়ে একে অন্যের ডিউটি করে দেওয়ার ব্যবস্থা চলছিল দীর্ঘদিন ধরে। হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সেইসব কথোপকথনের স্ক্রিনশট ভাইরাল হতেই চিকিৎসক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এমনই অভিযোগ উঠেছে কলকাতার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্নদের একাংশের বিরুদ্ধে। এর পাশাপাশি কোন বিভাগের ডিউটি কতক্ষণ, তার জন্য কত টাকা হবে সে সব নিয়েও চলছিল দরাদরি।

ভাইরাল হওয়া হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট অনুযায়ী, একটি গ্রুপে ২৬৬ জন ইন্টার্ন রয়েছেন। অভিযোগ,  তাঁদের ডিউটির সময় বদলে দেওয়ার পরিবর্তে টাকা চাওয়া হচ্ছে (ওই হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের সত্যতা যাচাই করেনি দৈনিক স্টেটসম্যান)। সেখানে একজন জানিয়েছেন, তাঁর রাত ১০টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত নাইট ডিউটি রয়েছে। তবে তিনি সেই ডিউটি করতে চান না। সেই সময় অন্য একজন ওই ডিউটি করে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। বিনিময়ে তিনি প্রতি ঘণ্টায় ২৫০ টাকা করে দাবি করেন বলে ওই চ্যাটের কথোপকথনে উঠে এসেছে।

আরও পড়ুন:  বিস্ফোরণের জেরে শুকিয়ে গেল পুকুর, জামুড়িয়ায় ইসিএলের খোলামুখ খনিতে বিক্ষোভ

এখানেই শেষ নয়। অন্য একটি চ্যাটে অন্য একটি বিভাগে ডিউটি বদলের জন্য প্রতি ঘণ্টায় ২০০ টাকা করে পাওয়া যাবে কি না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। এরকম একের পর এক চ্যাট সামনে আসার পরে প্রশ্ন উঠছে, ইন্টার্নশিপের মতো প্রশিক্ষণপর্বে এভাবে দায়িত্ব পালন না করে তার বদলে টাকা দিয়ে অন্যকে ডিউটি করানোর চেষ্টা কি সত্যিই চলছিল?

স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য দপ্তরের তদন্তের সূত্র ধরেই গোটা বিষয়টি সামনে আসে। তাঁর দাবি, যে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপগুলিতে ডিউটি বিক্রির ব্যবস্থা চলছিল, সেগুলির উপর তিনি ও স্বাস্থ্য দপ্তর নজর রাখছেন। সেই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, গোটা বিষয়টি নিয়ে গ্রুপের অ্যাডমিনদের সতর্ক করা হয়েছে। প্রতি ঘণ্টার হিসাবে ডিউটি বিক্রির ব্যবস্থা আর চলতে দেওয়া যাবে না বলেও তিনি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন:  শরৎ এল রে: দশমীতে কেন বনেদি বাড়িগুলিতে নীলকণ্ঠ পাখি ওড়ানো হতো?

আরও পড়ুন: ‘মোদী-আদানির বন্ধুত্বে ভারত লুঠ!’ ভিডিও নিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ আদানি এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড

এই বিষয়ে জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্টের চিকিৎসক সদস্য দেবাশিস হালদার সরব হয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, এমন অনৈতিক ব্যবস্থা চললে তার তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। যদি সত্যিই এই ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে এতদিন ধরে তা কীভাবে চলল? বিভাগীয় প্রধান, হাসপাতালের সুপার এবং অধ্যক্ষ, কেউ কি বিষয়টি জানতেন? এক্ষেত্রে তিনি অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে পদক্ষেপ করার বিষয়ে সওয়াল করেছেন। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবার দায়িত্বে থাকা ইন্টার্নদের একাংশের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠার পর স্বাভাবিকভাবে রোগীদের নিরাপত্তা ও পরিষেবা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment