‘মোদী-আদানির বন্ধুত্বে ভারত লুঠ!’ ভিডিও নিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ আদানি এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড

By Suman Debnath

October 26, 2026 1:30 PM

‘মোদী-আদানির বন্ধুত্বে ভারত লুঠ!’ ভিডিও নিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ আদানি এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড


‘মোদী ও আদানি কীভাবে ভারতকে লুঠ করেছেন!’ এমনই শিরোনামের একটি ভিডিও ঘিরে আইনি লড়াই শুরু করল আদানি গোষ্ঠী। ভিডিওটিকে মিথ্যা, মানহানিকর এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে আদানি এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেড।

সোমবার বিচারপতি আর্যক দত্তের এজলাসে আদানি এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেডের আইনজীবির অভিযোগ ইউটিউব, এক্স, ইনস্টাগ্রামের মূল সংস্থা মেটা এবং ভিডিওটির নির্মাতা-সহ একাধিক ব্যক্তিকে পক্ষ করা হয়েছে। মামলার বয়ান অনুযায়ী, ৯ অক্টোবর ২০২৬ ইউটিউবে প্রায় ৩৬ মিনিটের ওই ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়। ‘Bcubed (Breaking Boundaries with Sabeer Bhatia)’ নামে একটি ইউটিউব চ্যানেলে ভিডিওটি আপলোড করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। পরে সেটি এক্স হ্যান্ডলেও প্রকাশ করা হয় বলে দাবি আদানি এন্টারপ্রাইজেসের।

ভিডিওটির সঙ্গে ‘শ্যাডো সিটিজেন্স (Shadow Citizens)’ নামে একটি গোষ্ঠীর যোগ রয়েছে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। আদানি গোষ্ঠীর দাবি, ভিডিওটির শিরোনাম এবং তাতে বলা কথাগুলি সংস্থার সুনাম নষ্ট করছে। মামলায় বলা হয়েছে, প্রকাশের অল্প সময়ের মধ্যেই ইউটিউবে ভিডিওটি ৪৬ হাজারের বেশি বার দেখা হয়েছিল। এক্স হ্যান্ডেলেও দর্শক সংখ্যা ৪০ হাজার ছাড়িয়েছিল বলে দাবি।

আরও পড়ুন:  'আজাদি’ স্লোগানে মমতাকে নিশানা, শ্রীরামপুরের সভাকে ‘প্রহসন’ বলে কড়া বার্তা শুভেন্দুর

আদানি এন্টারপ্রাইজেসের মামলার অন্যতম প্রধান অভিযোগ, সরকারি নির্দেশের ভিত্তিতে ভারতে ইউটিউবে ভিডিওটি দেখা বন্ধ করা হলেও তার প্রচার থামেনি। সংস্থার দাবি, অন্য ইউটিউব চ্যানেল এবং এক্স অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ভিডিওটি ফের আপলোড করা হচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় সেটি নতুন করে ছড়িয়েও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ।

এই অভিযোগের সমর্থনে মামলায় কয়েকটি অ্যাকাউন্ট ও চ্যানেলের নাম উল্লেখ করেছে আদানি এন্টারপ্রাইজেস। তার মধ্যে রয়েছে রাজ ঠাকরের নামে থাকা একটি এক্স অ্যাকাউন্ট, সঞ্জয় রাউতের এক্স অ্যাকাউন্ট এবং ‘র‍্যান্ডামরিয়েলএমএসটিউব (RandomRealmsTube)’ নামে একটি ইউটিউব চ্যানেল। বাংলাদেশের ওই চ্যানেলে ১১ অক্টোবর ভিডিওটি আপলোড করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছে সংস্থাটি।

আদানি এন্টারপ্রাইজেসের বক্তব্য, পরিকাঠামো, জ্বালানি, পরিবহণ, বিমানবন্দর এবং প্রতিরক্ষা-সহ একাধিক ক্ষেত্রে তাদের ব্যবসা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসার মাধ্যমে সংস্থাটি যে সুনাম তৈরি করেছে, এই ভিডিও তার ক্ষতি করতে পারে বলে আশঙ্কা আদানি গোষ্ঠীর। এর প্রভাব বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়িক অংশীদার এবং সাধারণ মানুষের কাছেও পড়তে পারে বলে দাবি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:  বাংলা-সংস্কৃতিই চেনে না বিজেপি, শিক্ষক দিবসে শুভেন্দুকে কটাক্ষ মমতার

ভিডিওটির নির্মাতা হিসেবে মামলায় সাবির ভাটিয়ার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি গুগল, এক্স এবং মেটাকেও পক্ষ করা হয়েছে। কারণ, এই সংস্থাগুলির ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ভিডিওটি প্রকাশ ও ছড়িয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ আদানিদের। ভিডিও তৈরি বা তা ফের ছড়ানোর সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহ করা কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকেও মামলায় পক্ষ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা জোরদার করতে বদলে গেল শান্তিপুরের বিখ্যাত বামা কালীর নাচের স্থান

আদানি এন্টারপ্রাইজেসের দাবি, অন্য জায়গায় অভিযোগ জানিয়েও তারা সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধান পায়নি। তাই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে সংস্থাটি। তবে এটি আদানি এন্টারপ্রাইজেসের করা মামলা। ভিডিওতে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সত্য কি না, সে বিষয়ে এই মামলার আবেদনের ভিত্তিতে আদালতের কোনও সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যাবে না। আপাতত মামলায় আদানি গোষ্ঠীর অভিযোগই তুলে ধরা হয়েছে।

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment