লক্ষ্মীপুজোর বাজার করতে গিয়ে নাভিশ্বাস মধ্যবিত্তের, দামের ছ্যাঁকায় ধনদেবীর বরণে চাপে গৃহস্থরা

By Suman Debnath

October 24, 2026 10:25 AM

লক্ষ্মীপুজোর বাজার করতে গিয়ে নাভিশ্বাস মধ্যবিত্তের, দামের ছ্যাঁকায় ধনদেবীর বরণে চাপে গৃহস্থরা


রাত পোহালেই কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো। আর তার আগে বাজারে গিয়ে রীতিমতো ছ্যাঁকা খাচ্ছেন গৃহস্থরা। কারণ আপেল ২০০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। একটি নারকেল বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়। একটি পদ্মফুল ২৫ টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে। তাই বাজার করতে বেরিয়ে পকেট চাপ পড়ছে বাঙালির। লক্ষ্মীপুজোর আগেই চড়ে গিয়েছে বাজার। নাড়ু তৈরি থেকে নানা রকমের ভোগের সরঞ্জাম অনেকেই বাড়িতে তৈরি করেন। কিন্তু ফুল, ফল, আনাজ কিনতে গিয়ে নাভিশ্বাস উঠে যাচ্ছে মধ্যবিত্তের। ব্যাগভরে বাজার করার ইচ্ছা থাকলেও তা পূরণের উপায় নেই। অগত্যা আয়োজনে কাটছাঁট করে কোজাগরী পূর্ণিমায় ঐশ্বর্যের দেবীর আরাধনার আয়োজন চলছে।

শহর থেকে গ্রামবাংলার বিভিন্ন বাজারে ফলের দাম বেশ চড়া। মোসাম্বি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা কেজি দরে। একটি আখ কিনতে খরচ হচ্ছে ৫০ টাকা দিয়ে। ন্যাসপাতি ২০০ টাকা কেজি। এক ডজন কলার দাম পৌঁছেছে ১০০ টাকায়। দর কষাকষির কুস্তি চলছে। তাতে খুব একটা লাভ হচ্ছে না। বরং বিধ্বস্ত ক্রেতারা। দেবীর আসনের পাশে গোছা ধরা ধানের শিষ বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা দামে। পাঁচ গ্রাম ওজনের পঞ্চ শস্যের প্যাকেটের দাম ২০ টাকা। সরু কাগজের মালার দাম ২৫ টাকা। ৩০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে চাঁদমালা। আলপনার ছোট্ট এক টুকরো খড়িমাটির দাম ১০ টাকা। লক্ষ্মীর পায়ের ছাপের একটি স্টিকার ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আরও পড়ুন:  ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের মামলা, হাই কোর্টের নির্দেশে অসন্তুষ্ট মহুয়া মৈত্র; সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ তৃণমূল সাংসদের

গাঁদা-সহ অন্য ফুলের দাম বছরের অন্য সময়ের তুলনায় বেশি রয়েছে। ধানের ছড়া বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। খুচরো ফুলের দাম আগে যেখানে প্রায় ১৫০ টাকা ছিল সেটা বেড়ে হয়েছে ২৫০ টাকার কাছাকাছি। দুটি সলতে-সহ মাটির প্রদীপের দাম ২০ টাকা। ঘট ৩০ টাকা, ছোট ডাব ২৫ টাকা, একটি আখ ৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সব মিলিয়ে লক্ষ্মীবরণের প্রস্তুতি শুরু হলেও বাজারদরে নাভিশ্বাস গৃহস্থের। এক ক্রেতা বলেন, ‘লক্ষ্মীপুজোয় ফল-ফুল কিনতেই হয়। কিন্তু এবার প্রায় সব কিছুর দাম বেশি। অল্প কিছু কিনতে গেলেও খরচ অনেকটা বেড়ে যাচ্ছে। সংসারের অন্য খরচ সামলে পুজোর বাজার করা কঠিন।’

তাছাড়া লক্ষ্মীপুজোর আরাধনায় খিচুরি ভোগ আয়োজনের রীতি ধরে রাখতে গিয়ে মাথা ঘুরছে অনেকের। কারণ বেগুন, ফুলকপি, বাধাকপি, পটল, মূলো, গাজর, সিম, ঝিঙের দাম আকাশ ছুঁয়েছে। কাঁচালঙ্কার কেজি ১২০ টাকা। বিভিন্ন বাজারে পটল বিকিয়েছে ৮০ টাকা কেজি দামে। বেগুনের কেজি প্রতি দাম ১০০ টাকা। ফুলকপি ৮০ টাকা পিস। বরবটি ৮০ টাকা, শশা ৮০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। এক ফুল বিক্রেতা বলছেন, ‘লক্ষ্মীপুজোর আগে পদ্ম এবং অন্য ফুলের চাহিদা বাড়ে। বাজারে দামও বেশি থাকছে। বেশি দামে কিনতে হচ্ছে বলে ক্রেতাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।’ কুমড়ো পর্যন্ত ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর এক সবজি বিক্রেতার কথায়, ‘কোনও মান্ডিতে সবজির আমদানি নেই। যতটুকু মিলছে চড়া দামে কিনতে হচ্ছে। তাই খুচরো বাজারে দাম বাড়ছে।’

আরও পড়ুন:  ‘নিরাপত্তা-পরম্পরা-ঐতিহ্য মেনেই বিসর্জন হবে’, বাবুঘাট পরিদর্শন করে বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment