বিলোনিয়া, ১৪ অক্টোবর: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত ‘বিকশিত ভারত’ ও ‘সেবা পক্ষ’ কর্মসূচিকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে দক্ষিণ ত্রিপুরার বিলোনিয়া শহরে। ব্যস্ত রাস্তার মাঝখানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিকৃতি এঁকে রঙ্গোলি তৈরির উদ্যোগ ঘিরে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। প্রতিকৃতির উপর দিয়ে পথচারী, বাইক ও গাড়ি চলাচল করায় বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে।
জানা গিয়েছে, বুধবার সকালে বিলোনিয়া পৌর পরিষদ, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর এবং জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে শহরের একটি ব্যস্ত রাস্তার উপর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতিকৃতি আঁকা হয়। তবে রাস্তার মাঝখানে প্রতিকৃতি আঁকার ফলে তার উপর দিয়ে সাধারণ মানুষের যাতায়াত এবং যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়। এমনকি গবাদি পশুও ওই প্রতিকৃতির উপর দিয়ে চলে যায় বলে অভিযোগ।
ঘটনাটি সামনে আসতেই কর্মসূচির পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে তাঁকে সম্মান জানাতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কীভাবে ব্যস্ত রাস্তার উপর প্রতিকৃতি আঁকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয় শহরজুড়ে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা। এরপর সেখানে উপস্থিত হন তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের বরিষ্ঠ আধিকারিক মনোজ দেববর্মা, একজন চিত্রশিল্পী এবং অতিরিক্ত জেলাশাসক হাফিজ উদ্দিন। সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের মুখে পড়েন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা।
এরপর রাস্তার উপর আঁকা প্রতিকৃতির অংশে রং ঢেলে তা মুছে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে ওই অংশে দড়ি দিয়ে রাস্তা ঘিরে দেওয়া হয়। গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক পরিকল্পনা ও কর্মসূচি পরিচালনার পদ্ধতি নিয়ে সমালোচনা আরও জোরদার হয়।
এদিকে, ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা দূরেই রয়েছে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের একটি মর্মর মূর্তি। স্থানীয় কিছু মানুষের বক্তব্য, রাস্তার মাঝখানে প্রতিকৃতি আঁকার পরিবর্তে ওই মূর্তির পাশে একটি সুপরিকল্পিত কর্মসূচির আয়োজন করা হলে তা আরও উপযুক্ত হতে পারত।
প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়দের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, জাতীয় স্তরের একজন নেতাকে সম্মান জানাতে হলে কর্মসূচির স্থান নির্বাচন, পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা প্রয়োজন ছিল।
সব মিলিয়ে, বিলোনিয়ার এই ঘটনাকে ঘিরে শহরজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ‘বিকশিত ভারত’ ও ‘সেবা পক্ষ’-এর মতো কর্মসূচি আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক পরিকল্পনা কতটা যথাযথ ছিল, তা নিয়েই এখন উঠছে প্রশ্ন।
Leave a Comment