---Advertisement---

টানা এক মাস থাকবে ২০ হাজার আধা-সেনা,  উৎসবের মরশুমে দুর্গে পরিণত হল বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লি

By Suman Debnath

October 12, 2026 7:55 PM

টানা এক মাস থাকবে ২০ হাজার আধা-সেনা,  উৎসবের মরশুমে দুর্গে পরিণত হল বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লি

---Advertisement---


 নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের আন্দোলনের আঁচ বাড়তেই রাজধানী দিল্লিকে আক্ষরিক অর্থেই দুর্গে পরিণত করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। দিল্লির রাজপথে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং যে কোনও ধরনের অননুমোদিত জমায়েত রুখতে প্রায় ২০ হাজার অতিরিক্ত আধা-সামরিক বাহিনীর (paramilitary forces) জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারি সূত্রের খবর, শুধু তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ সামলানোই নয়, আসন্ন উৎসবের মরশুমে শহরের বাজার ও জনবহুল এলাকাগুলিতে বাড়তি ভিড়ের কথা মাথায় রেখে আগামী অন্তত এক মাস রাজধানীতেই ঘাঁটি গেড়ে থাকবে এই বিশাল বাহিনী।

বিক্ষোভের মানচিত্র থেকে বাদ যন্তরমন্তর

 রাজধানীর উচ্চ-নিরাপত্তা বলয়ে অবস্থিত যন্তরমন্তরকে আর প্রতিবাদের জন্য ব্যবহার করতে দিতে নারাজ প্রশাসন। দীর্ঘ দিন ধরে এই চত্বরটি যাবতীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের চেনা ঠিকানা হলেও এবার সেই তালিকায় সরাসরি কাঁচি চালাল দিল্লি পুলিশ। নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট করা হয়েছে, শহরে যে কোনও ধরনের জমায়েত বা প্রতিবাদের জন্য রামলীলা ময়দান, বুরারি ময়দান এবং সিবিডি ময়দান– এই তিনটি জায়গাকেই বেছে নিতে হবে। সংসদ ভবন, রাষ্ট্রপতি ভবন এবং কর্তব‍্য পথের মতো অতি-সংবেদনশীল প্রশাসনিক এলাকার খুব কাছে হওয়ায় যন্তরমন্তরকে বিক্ষোভমুক্ত রাখতেই এই সিদ্ধান্ত।

২০টি জোনে বিভক্ত নতুন দিল্লি

 বিক্ষোভকারীদের আচমকা জমায়েত রুখতে গোটা নতুন দিল্লি জেলাকে প্রশাসনিক ভাবে ২০টি পৃথক অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি জোনের সার্বক্ষণিক নজরদারির দায়িত্ব সামলাচ্ছেন যুগ্ম কমিশনার, উপকমিশনার এবং অতিরিক্ত উপকমিশনার পদমর্যাদার আইপিএস অফিসারেরা। দিল্লি পুলিশের হাজার হাজার কর্মীর পাশাপাশি রাস্তায় নেমেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী।

 শহরের প্রতিটি সীমানা পয়েন্টে বসানো হয়েছে ব্যারিকেড। ভিনরাজ্য থেকে দিল্লিতে ঢোকা প্রতিটি গাড়িতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। আনন্দ বিহার বা কাশ্মীরি গেটের মতো বাস টার্মিনাল এবং নতুন দিল্লি, পুরোনো দিল্লি ও নিজামুদ্দিন রেল স্টেশনে বাড়ানো হয়েছে সাদা পোশাকের গোয়েন্দা নজরদারি। শহরের কোথাও যাতে জমায়েতের উদ্দেশ্যে সন্দেহভাজন দল আশ্রয় নিতে না পারে, তার জন্য দিল্লির সমস্ত হোটেল, গেস্ট হাউস, লজ ও ধর্মশালাগুলিতে পরিচয়পত্র যাচাইয়ের বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে।

বৃহত্তর গণ-আন্দোলনের রূপরেখা

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’ (Special Intensive Revision-SIR) প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (Chief Election Commissioner-CEC) জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ দাবি করেছে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA bloc) জোট। এই দাবিতেই সোমবার বিরোধীরা শীর্ষ আদালতের উদ্দেশে মিছিল করেন।

 প্রশাসনিক কর্তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে বিরোধীদের কৌশলী অবস্থান। এই আন্দোলনকে কেবল কংগ্রেস বা কয়েকটি রাজনৈতিক দলের কর্মসূচির মধ্যে আটকে না রেখে নাগরিক সমাজ এবং দেশের প্রধান প্রধান ছাত্র সংগঠনগুলিকে রাজপথের লড়াইয়ে যুক্ত করা হয়েছে। একে একটি বৃহত্তর গণতান্ত্রিক আন্দোলনের চেহারা দিয়ে দেশজোড়া জনমত তৈরির চেষ্টা চলছে। এই পরিস্থিতিতে রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে যাতে কোনও বড় ধরনের আইনশৃঙ্খলার সংকট তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই নজিরবিহীন কড়া দাওয়াই প্রয়োগ করল কেন্দ্র।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment