---Advertisement---

মেট্রো-ট্রেন স্বাভাবিক করে ব্যারিকেড সরান, শান্তিপূর্ণ জমায়েতে বেআইনি আটক নয় নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

By Suman Debnath

October 11, 2026 1:40 PM

মেট্রো-ট্রেন স্বাভাবিক করে ব্যারিকেড সরান, শান্তিপূর্ণ জমায়েতে বেআইনি আটক নয় নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

---Advertisement---


নয়াদিল্লির রাস্তা থেকে এবার সব ব্যারিকেড সরাতে হবে পুলিশকে। এমনকী বন্ধ করা যাবে না ইন্টারনেট পরিষেবাও। এখানেই শেষ নয়, রেল এবং মেট্রো পরিষেবা দ্রুত স্বাভাবিক করতে হবে। আর শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের জমায়েতে কাউকেই বেআইনিভাবে আটক করা যেন না হয়। ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ কর্মসূচি ঠেকাতে পুলিশের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার বিশেষ শুনানিতে রবিবার এই নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। দিল্লি পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে এই নির্দেশ বেশ অস্বস্তিকর। এই নির্দেশের ফলে সিজেপির শান্তিপূর্ণ আন্দোলন আর আটকাতে পারবে না বা দমনপীড়ন নীতি নিতে পারবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ তুলে তুমুল আন্দোলনে নেমেছে ককরোচ জনতা পার্টি। অবিলম্বে জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতে হবে বলেও দাবি তোলা হয়েছে। শুধু ককরোচ জনতা পার্টিই নয়, দেশের তামাম বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির নেতা-নেত্রীরাও আন্দোলনে নেমেছেন। আর সেসব ঠেকাতেই দিল্লি পুলিশের ‘বজ্রআঁটুনি’ নিরাপত্তা থেকে শুরু করে আটক করার ঘটনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট। কারণ এই নিয়ে দায়ের হয় মামলা। আর তাতেই এমন নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। কেন্দ্রীয় সরকার এবং দিল্লি পুলিশকে আদালত বলল, ‘অযথা প্রয়োজন ছাড়া ব্যারিকেড সরান। মানুষকে অবাধে যাতায়াত করতে দিন।’

দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ, নিতান্ত প্রয়োজন না হলে অবিলম্বে রাস্তাঘাট থেকে পুলিশের ব্যারিকেড সরাতে হবে। সাধারণ মানুষ যাতে বিনা বাধায় যাতায়াত করতে পারেন সেটা নিশ্চিত করতে হবে। আর আদালত রাজধানীতে মেট্রো এবং ইন্টারনেটও চালু করার নির্দেশ দিচ্ছে। এমনকী এই বিষয়ে নোটিস জারি করে দিল্লি পুলিশ, দিল্লি মেট্রো-সহ সবপক্ষের কাছে জবাবও তলব করেছে সুপ্রিম কোর্ট। এই মামলার পরবর্তী শুনানি মঙ্গলবার। ওই দিনের মধ্যে জবাব দিতে হবে সবপক্ষকে। শনিবার থেকে ‘অভেদ্য দুর্গ’তে পরিণত হয়েছিল নয়াদিল্লি। চার রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীদেরও আটক করা হয়েছিল। আইনজীবীদেরও আটক করা হয়েছিল। তার সঙ্গে ছিল পুলিশের বলপ্রয়োগ। এইসব কিছু নিয়েই রীতিমতো অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট।

এখানেই শেষ নয়, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ এই মামলায় কেন্দ্রীয় সরকারকে নোটিস জারি করেছে। বিচারপতিদের এই বেঞ্চ জানান, দিল্লির রাস্তায় ব্যারিকেড বসানোর বিষয় পর্যালোচনা করতে হবে। অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, অবৈধভাবে আটক অথবা ‘নেমট্যাগ’ ছাড়া পুলিশকর্মীদের রাস্তায় থাকার মতো অভিযোগ উঠেছে। এটা বিধিবদ্ধ কর্তব্যের লঙ্ঘন। তাই তা নিয়ে জবাব দিতে হবে কর্তৃপক্ষকে। কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য সাময়িক ইন্টারনেট বন্ধ রাখা যেতে পারে। জবাবে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ বলেছেন, ‘আমরা আপনার অধিকার ছিনিয়ে নিচ্ছি না।’

আর সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, সর্বোচ্চ আদালতের বাইরে থাকা বিএনএস ১৬৩ নম্বর ধারার বোর্ড সরিয়ে ফেলতে হবে। যাতে ন্যায়বিচারের পথে কোনও বাধাসৃষ্টি না হয়। বিচারপতি মোহনা বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করা যেতেই পারে। তবে আইনভঙ্গ করা যাবে না।’ এদিন আইনজীবী কপিল সিব্বাল সওয়াল করেন, ‘সংবিধানে নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করার অধিকার আছে। কিন্তু আন্দোলনকারীদের নির্ধারিত প্রতিবাদস্থলে পৌঁছতেই দেওয়া হয়নি। বাধা দেওয়া হয়েছে। টেনেহিঁচড়ে তোলা হয়েছে প্রিজন ভ্যানে। অনেককে অবৈধভাবে আটক করেছিল পুলিশ।’ পাল্টা জবাব দিয়েছেন কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তাঁর জবাব, ‘পুলিশের অনুমতিই নেওয়া হয়নি।’ তখনই বেঞ্চ জানায়, আদালত পুলিশের বিধিনিষেধের ১৯ (২) ধারা সাংবিধানিক সুরক্ষার সঙ্গে কেমনভাবে সম্পর্কিত সেটা খতিয়ে দেখবে। আর বিচারপতিদের বেঞ্চ বলেন, ‘প্রতিবাদ করার অধিকার নিয়ে কোনও বিরোধ নেই। কিন্তু সেই প্রতিবাদ কর্মসূচি অবশ্যই আইন মেনে হতে হবে।’

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment