---Advertisement---

দিল্লিতে বন্ধ মেট্রো পরিষেবা, স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশপ্রধান ও ডিএমআরসি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন

By Suman Debnath

October 10, 2026 1:25 PM

দিল্লিতে বন্ধ মেট্রো পরিষেবা, স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশপ্রধান ও ডিএমআরসি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন

---Advertisement---


সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেও দিল্লি মেট্রোর একাধিক স্টেশন বন্ধ রাখার অভিযোগ। এই ঘটনায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব, দিল্লির পুলিশ কমিশনার এবং দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশনের(ডিএমআরসি) চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন জমা পড়েছে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court)।

আবেদনকারীর দাবি, আদালত গণপরিবহণ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার বিরুদ্ধে সতর্ক করার পরেও একাধিক মেট্রো স্টেশনের প্রবেশপথ বন্ধ রয়েছে। নিজে বিভিন্ন স্টেশন ঘুরে এই পরিস্থিতি দেখেছেন বলে দাবি করেছেন আবেদনকারী আইনজীবী শৈলেন্দ্রর মণি ত্রিপাঠী।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন, দিল্লির পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমার এবং ডিএমআরসি-র চেয়ারম্যান ডি তারা-র বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) নির্দেশ ইচ্ছাকৃত ভাবে অমান্য করার অভিযোগে আদালত অবমাননার প্রক্রিয়া শুরু করার আর্জি জানিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন: দিল্লি বিমানবন্দরে আটক সিজেপির অভিজিৎ দীপকে, আটক সৌরভ-আশুতোষও

মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখার অভিযোগ

ত্রিপাঠীর আবেদনে বলা হয়েছে, ডিএমআরসি ঘোষণা করেছিল, ৯ অক্টোবর রাত ৯টা থেকে ১০ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দিল্লির ৪৫টি মেট্রো স্টেশনের ঢোকা ও বেরনোর গেট বন্ধ থাকবে।

আইনজীবীর দাবি, ওই বিধিনিষেধ কার্যকর করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তিনি ৯ অক্টোবর রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ জিটিবি নগর এবং বিশ্ববিদ্যালয় মেট্রো স্টেশনে যান।

তাঁর অভিযোগ, জিটিবি নগর স্টেশনের ১ ও ২ নম্বর গেট বন্ধ ছিল। তিন নম্বর গেট দিয়ে নিয়ন্ত্রিত ভাবে যাত্রীদের বেরোতে দেওয়া হচ্ছিল। পরিস্থিতির প্রমাণ রাখতে দুই নম্বর গেটের একটি ভিডিও রেকর্ড করেন বলে দাবি করেছেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় মেট্রো স্টেশনেও প্রবেশের গেট বন্ধ ছিল বলে আবেদনে উল্লেখ করেছেন ত্রিপাঠী। তাঁর দাবি, সেখানে কেবল বেরোনোর গেট খোলা ছিল। আবেদনে আরও বলা হয়েছে, রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ যন্তর মন্তরে গিয়ে তিনি শুধু পুলিশ ও আধাসেনা বাহিনীর জওয়ানদের দেখতে পান।

ট্রেন বাতিল ও পরিবহণ ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন

দিল্লিতে ট্রেন বাতিল এবং পরিবহন সংক্রান্ত পরিবর্তিত ব্যবস্থার বিষয়ে পর্যাপ্ত প্রচার না করার অভিযোগও তুলেছেন আবেদনকারী আইনজীবী। তাঁর বক্তব্য, গণপরিবহন সম্পূর্ণ বন্ধ না রাখার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও বিধিনিষেধ জারি রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আদালতের নির্দেশ যথাযথ ভাবে পালন করেছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ত্রিপাঠী আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, তিন আধিকারিককে ব্যক্তিগত ভাবে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হোক, কেন তাঁদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে না। পাশাপাশি, সামগ্রিক বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করে নিয়ন্ত্রিত ভাবে পরিবহণ পরিষেবা চালু করারও আর্জি জানিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন: দিল্লি কার্যত দুর্গ, বন্ধ ৪৫টি মেট্রো স্টেশন, আটক বিক্ষোভকারীরা

৯ অক্টোবর কী বলেছিল সুপ্রিম কোর্ট?

শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ জানায়, মেট্রো বা অন্য কোনও গণপরিবহন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা উচিত নয়।

ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং অন্যান্য সংগঠনের প্রতিবাদ কর্মসূচির আগে মেট্রো ও রেল পরিষেবায় বিধিনিষেধ আরোপের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া আবেদনের শুনানিতে হস্তক্ষেপ করে আদালত।

পরিস্থিতি সামাল দিতে গণপরিবহণের পরিষেবা নিয়ন্ত্রণ করা এবং সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে বলে জানায় বেঞ্চ। বিধিনিষেধকে ‘অতিরিক্ত হস্তক্ষেপমূলক’ বলেও উল্লেখ করে আদালত।

শুনানিতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে আশ্বাস দেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিধিনিষেধের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবে। এর পাশাপাশি, ডিএমআরসি, রেল কর্তৃপক্ষ এবং দিল্লি পুলিশের ট্রাফিক বিভাগকে চার দিনের মধ্যে নির্দেশ পালনের বিষয়ে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ।

দেখুন: গ্রেপ্তার হতেই দিল্লিতে এসেছি

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

Related Stories

No comments to show.

Leave a Comment