দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার নয়া বাজারের ক্ষীর দই বেশ জনপ্রিয়। এবার সেই দই পাড়ি দেবে দেশ-বিদেশে। জিআই ট্যাগ পেতে চলেছে নয়া বাজারের এই বিখ্যাত ক্ষীর দই। জেলার পাশাপাশি বিভিন্ন রাজ্য ও দেশের নানান প্রান্তে এখানকার দইয়ের অনেক নাম ডাক রয়েছে। সেক্ষেত্রে জিআই ট্যাগ পেলে দই শিল্পের চাহিদা বৃদ্ধি পাবে। সেই সঙ্গে আরও বেশি কর্মসংস্থানও বাড়বে।
নয়া বাজারের একাধিক পরিবার দীর্ঘদিন ধরে পূর্বপুরুষদের শুরু করা এই ব্যবসাই চালিয়ে যাচ্ছেন। গঙ্গারামপুর ব্লকের নয়া বাজার এলাকার অন্তত ৫০ জন বড় দই ব্যবসায়ী রয়েছেন। এছাড়াও যাদববাটি, সুথল, দকলাইন, সায়রাপুর এলাকারও শতাধিক ব্যবসায়ী এখানকার দই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। ব্যবসায়ীরা গ্রামের একাধিক বাড়ি থেকে দুধ সংগ্রহ করে নয়া বাজারে নিয়ে আসেন। শতাধিক ব্যবসায়ী ওই হাটে দুধ নিয়ে আসেন।
ওই হাটে প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার লিটার দুধ কেনাবেচা হয়। কারিগররা ৬০-৭০ টাকা লিটার দরে দুধ কিনে তিন ধরনের দই উৎপাদন করেন। এর মধ্যে রয়েছে ক্ষীর দই, খাসা দই ও সাধারণ দই। কোন দইয়ের কী মূল্য জানেন? ক্ষীর দইয়ের এখন বাজার মূল্য প্রতি কেজিতে ৩৫০ টাকা। কারিগররা খাসা দই প্রতি কেজিতে ২৫০ টাকা ও সাধারণ দই প্রতি কেজিতে ২০০ টাকা করে বিক্রি করেন। তবে এগুলি ছাড়াও এখানে চন্দ্রচূড় দই তৈরি হয়। তবে সেটা স্পেশাল অর্ডার পেলেই তৈরি করেন কারিগররা। এর বাজার মূল্য প্রতি কেজিতে প্রায় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা হয়।
সেখানকার দই ব্যবসায়ী বিপ্লব ঘোষ ও যোগেশ চন্দ্র ঘোষ জানান, তাঁদের পূর্বপুরুষেরা আগে বাংলাদেশের পাবনাতে থাকতেন। সেখানে বিপুল পরিমাণ দুধ আমদানি হত। দুধ থেকে মেশিনের সাহায্যে ঘি বের করা হত। বাকি বেচে যাওয়া দুধ দিয়ে দই তৈরি করা হত। প্রায় সাত ঘণ্টা দুধ ফোটানোর পর তা দই তৈরির জন্য উপযুক্ত হয়। নয়া বাজারে তৈরি দই অন্যান্য জায়গার তুলনায় একেবারে আলাদা। এই দই একেবারে ভিন্ন পদ্ধতিতে তৈরি হয়।
আরও পড়ুন: বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের ভ্রুকুটি, সপ্তাহান্তেও রয়েছে বৃষ্টির পূর্বাভাস, উত্তর-দক্ষিণে কী পরিস্থিতি?
নয়া বাজারের দই বিহারে পাঠানো হয়। কলকাতাতেও সেই দই আসে। কিন্তু এতদিন ধরে নয়া বাজারের ক্ষীর দই জিআই ট্যাগ না পাওয়ায় বিদেশে দই রপ্তানিতে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছিল। কিন্তু বর্তমানে নয়া বাজারের ক্ষীর দই জিআই ট্যাগ পেতে চলেছে। সেক্ষেত্রে রাজ্যের এই দইয়ের খ্যাতি যে এবার বিশ্বের দরবারে পৌঁছতে চলেছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
Leave a Comment