‘আমরা চাই যে এই দলটা চিরতরে উঠে যাক’, তৃণমূলের প্রতীক ইস্যুতে তোপ দিলীপের

By kolamkotha.com

September 12, 2026 12:50 PM

‘আমরা চাই যে এই দলটা চিরতরে উঠে যাক’, তৃণমূলের প্রতীক ইস্যুতে তোপ দিলীপের


তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক কার? এই প্রশ্ন নিয়ে দড়ি টানাটানি শুরু হয়েছে। শনিবার এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনারের বেঞ্চ ডেকে পাঠিয়েছে দুই শিবিরকে। সকালেই তাই পৌঁছে যায় ঋতব্রত শিবির। তাঁরা নিজেদের বক্তব্য পেশ করেছে। তারপর সেখানে গিয়ে নিজেদের স্বপক্ষে সওয়াল এবং নথি জমা দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির। এবার নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক, তহবিল কারা পাবে। এই আবহে দলটা চিরতরে উঠে যাক চান রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। এদিন এমনই দাবি করেছেন তিনি। এমনকী বিজেপির নেতারাও তাই চান বলে তাঁর দাবি।

এদিকে আইন এবং নিয়ম অনুযায়ী ঘাসফুলের প্রতীক কে পাবেন সেটা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে নির্বাচন কমিশনের উপর। বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস হেরে যাওয়ায় দল ভেঙে তিন টুকরো হয়ে গিয়েছিল। ২০ জন সাংসদ এনসিপিআই দলে যোগ দিয়েছেন। প্রায় ৬০ জন বিধায়ক বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিয়েছেন। নিজেদের আসল তৃণমূল বলে দাবিও করেছেন। যেখানে এই দলের সৃষ্টি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতেই। সেখানে এমন দড়ি টানাটানি শুরু হওয়া নিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘পুরো দলটাই উঠে গেলে ভাল হয়। দেখা গেল কেউ প্রতীক পেল না। আমরা চাই যে এই দলটা চিরতরে উঠে যাক। অনেক সর্বনাশ হয়েছে পশ্চিমবাংলার। রাজনীতিটাকে কলুষিত করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।’

আরও পড়ুন:  চোরবাগান কাণ্ডে এবার আতশকাচের নীচে খোদ পুলিশ, কাদেরকে ডাকবে লালবাজার?

অন্যদিকে রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রীর কথা অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ। কারণ যাঁরা নিজেদের আসল তৃণমূল বলে দাবি করছেন, তাঁদের টিকিট এবং দলের প্রতীক দিয়েছিলেন খোদ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। এমনকী তাঁর কাছে সাংসদ, বিধায়ক, কাউন্সিলর, পঞ্চায়েত সদস্য সবই আছে। সেখানে বিদ্রোহী শিবিরের কাছে শুধু আছে বিধায়ক। সেক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন কাউকেই না দিয়ে দলের প্রতীক ফ্রিজ করতে পারেন। তাই দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, ‘তৃণমূল কোথায়, সেটাই তো বোঝা যাচ্ছে না। কুণাল ঘোষের কথায় তৃণমূল মানে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! তো তিনি যতদিন আছেন তাঁকে দেখলে মনে হবে তৃণমূল কংগ্রেস বলে একটা দল ছিল।’

তাছাড়া নির্বাচন কমিশন যখন নিষ্পত্তির পথে হাঁটছে তখন দিলীপ ঘোষের কথায় তৈরি হয়েছে বিতর্ক। নির্বাচন কমিশন যদি ঘাসের উপর জোড়াফুল প্রতীক ঋতব্রত শিবিরকে দিয়ে দেয় তাহলে তা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা হবে। উল্লেখ্য, শিবসেনার বিবাদে নির্বাচন কমিশন দলত্যাগী একনাথ শিন্ডে গোষ্ঠীকে মূল শিবসেনা ঘোষণা করে দলীয় প্রতীক বরাদ্দ করেছিল। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন শিবসেনার প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত বালাসাহেব ঠাকরের পুত্র তথা মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে। সুপ্রিম কোর্ট প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে বলেছে, পরিষদীয় দলের বিধায়কদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নয়, দলত্যাগের আইনি বিচার বা প্রতীকের লড়াইয়ে মূল রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্ত এবং নিয়ন্ত্রণই শেষ কথা। সেক্ষেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতেই থাকার কথা দলীয় প্রতীক। এখন দেখার জল কতদূর গড়ায়।

আরও পড়ুন:  রাঁচির ভিডিওকে মৌলালির বলে প্রচারের অভিযোগ, সৃজন-দেবাঞ্জনদের বিরুদ্ধে লালবাজারে এফআইআর

No comments to show.

Leave a Comment