শরীরের ভিতর আগুন জ্বললে সম্পর্কের দেওয়াল কতক্ষণই বা অটুট থাকে! ইচ্ছে যখন বাঁধ মানে না, আকাঙ্ক্ষা যখন যুক্তির গলা টিপে ধরে, তখন ভালোবাসার হিসাবও হয়ে ওঠে ভীষণ শরীরী। সেই আগুন, সেই নিষিদ্ধ টান, সেই না-বলা কামনার গল্প নিয়েই ফের পর্দায় ঝড় তুলতে আসছে ‘লাস্ট স্টোরিজ ৩’। বুধবার প্রকাশ্যে এসেছে ঝাঁঝালো ট্রেলার। আর ২ মিনিট ১৯ সেকেন্ডের সেই ঝলকেই বোঝা গেল—এবারও নিছক প্রেমের গল্প নয়, সম্পর্কের অন্ধকার গলিতে ঢুকে আরও গভীরে যেতে চলেছে এই অ্যান্থলজি।
নারীর ইচ্ছে, শরীরী আকাঙ্ক্ষা, ভালোবাসার টানাপোড়েন আর সম্পর্কের গোপন খেলা—সব মিলিয়ে ট্রেলারে একের পর এক উসকানি। চোখে চোখে কামনা, সংলাপে শরীরী ইঙ্গিত, আর সম্পর্কের ভাঙাগড়ার মধ্যে দিয়ে যেন প্রশ্ন ছুড়ে দেওয়া হয়েছে—ইচ্ছে কি সত্যিই লুকিয়ে রাখা যায়?
ঝলকে নজর কেড়েছেন অদিতি রাও হায়দরি, রাধিকা আপ্তে, কঙ্কণা সেনশর্মা, রাধিকা মদন, সানা থাম্পি, বিজয় ভার্মা, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সিদ্ধার্থ, আলি ফজল এবং গুরফতেহ পিরজাদা। বিশেষ করে অদিতির সংলাপেই ট্রেলারের শরীরী উত্তাপ যেন কয়েক ধাপ বেড়ে যায়। নারীমনের গোপন আকাঙ্ক্ষার ইঙ্গিত দিয়ে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘মেয়েরা আদতে বাল্বের মতো নয়, বরং মোমবাতির মতো—যাঁরা শুধু জ্বলে না, গলতেও থাকে।’ একটি সংলাপেই যেন খুলে যায় কামনা আর অনুভূতির এক অন্ধ দরজা।
২০১৮ সালে ভালোবাসার সঙ্গে যৌনতাকে একই গল্পের অবিচ্ছেদ্য অংশ করে দর্শকের সামনে হাজির হয়েছিল ‘লাস্ট স্টোরিজ’। অনুরাগ কাশ্যপ, জোয়া আখতার, করণ জোহর এবং দিবাকর বন্দ্যোপাধ্যায়ের চার গল্পে তখন সম্পর্কের চেনা ছক ভেঙে দিয়েছিল এই অ্যান্থলজি। এবার সেই আগুনেই নতুন করে ঘি ঢেলেছেন বিক্রমাদিত্য মোতওয়ানে, কিরণ রাও, শকুন বাত্রা এবং বিশাল ভরদ্বাজ।
চার পরিচালকের চার গল্পে নারীই যেন নিজের ইচ্ছে, শরীর এবং আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রে। কোথাও সম্পর্কের ভিতর লুকিয়ে থাকা অপূর্ণতা, কোথাও নিষিদ্ধ টান, কোথাও আবার নিজের চাওয়াকে নিজের মতো করে বাঁচার লড়াই। ফলে এবার ‘লাস্ট স্টোরিজ’ কতটা আরও বেপরোয়া, কতটা আরও শরীরী এবং কতটা আরও অস্বস্তিকর সত্যি তুলে ধরে—সেই কৌতূহল তুঙ্গে।
কামনা এখানে শুধু শরীরের ভাষা নয়, সম্পর্কের ভিতরের বিস্ফোরক সত্যি। আর সেই সত্যিই যদি গল্পের কেন্দ্রে থাকে, তা হলে আগুন জ্বলবে—এটা বলাই যায়। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাবে ‘লাস্ট স্টোরিজ ৩’। তারপরই জানা যাবে, এই শরীরী ঝড় দর্শকের মনে কতটা দাগ কাটে।
Leave a Comment