---Advertisement---

১০ হাজার টাকায় বিক্রি করে ৪ বছর জোরপূর্বক শ্রম, গুজরাটে উদ্ধার কিশোর, গ্রেপ্তার ২

By kolamkotha.com

September 7, 2026 6:25 PM

১০ হাজার টাকায় বিক্রি করে ৪ বছর জোরপূর্বক শ্রম, গুজরাটে উদ্ধার কিশোর, গ্রেপ্তার ২

---Advertisement---


চার বছর আগে নিখোঁজ হয়ে যায় ১৪ বছরের কিশোর। পুলিশের অভিযোগ, অপহরণের পর মাত্র ১০ হাজার টাকায় তাকে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল এক পশুপালকের কাছে। তারপর থেকে গবাদি পশুর খামার ও বাড়ির কাজে জোর করে রাখা হয়েছিল তাকে। পালানোর চেষ্টা করেও রেহাই মেলেনি। ধরা পড়ে মারধরের শিকার হতে হয়েছিল। অবশেষে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে গুজরাটের পঞ্চমহল জেলার গোধরার কাছে অভিযান চালিয়ে ওই কিশোর-সহ ৩ নাবালককে উদ্ধার করল আহমেদাবাদ ক্রাইম ব্রাঞ্চ ও অ্যান্টি-হিউম্যান ট্র্যাফিকিং ইউনিট। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ২ ব্যক্তিকে।

পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতরা হলেন ৪৭ বছরের শ্রম ঠিকাদার দীনেশ ওড এবং ৩৫ বছরের পশুপালক ভারত ভরওয়াড়। দু’জনেই পঞ্চমহল জেলার নাদিসার গ্রামের বাসিন্দা। তাঁদের বিরুদ্ধে নাবালকদের জোর করে শ্রমে নিযুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার সূত্রপাত ২০২২ সালে। আহমেদাবাদের হেবাতপুর এলাকা থেকে ১৪ বছরের ওই কিশোর নিখোঁজ হওয়ার পরে সোলা থানায় অপহরণের অভিযোগ দায়ের করেছিলেন তার মা। নিখোঁজ ও অপহৃত শিশুদের উদ্ধারে চলা অভিযানের সূত্র ধরে সম্প্রতি তদন্তকারীরা ওই কিশোরের সন্ধান পান।

পুলিশের দাবি, ২০২২ সালে হেবাতপুরের কাছে রাতে একা ওই কিশোরকে দেখতে পেয়ে তাকে অপহরণ করে দীনেশ। পরে তাকে নাদিসারে নিয়ে গিয়ে ১০ হাজার টাকায় ভারত ভরওয়াড়ের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। ভরওয়াড়ের কাছে থাকার সময় তাকে গবাদি পশুর দেখাশুনো এবং বাড়ির বিভিন্ন কাজে বাধ্য করা হত বলে অভিযোগ।

পুলিশের আরও দাবি, দু’বার পালানোর চেষ্টা করেছিল কিশোরটি। কিন্তু প্রতিবারই তাকে ধরে ফেলা হয়। অভিযোগ, পালানোর চেষ্টার পরে তাকে মারধর করা হত এবং আটকে রাখা হত। এইভাবেই প্রায় ৪ বছর কেটে যায়। সম্প্রতি গোপন সূত্রে খবর পেয়ে নাদিসার গ্রামে অভিযান চালায় ক্রাইম ব্রাঞ্চ ও মানব পাচার-বিরোধী ইউনিট। সেখান থেকেই ওই কিশোরকে উদ্ধার করা হয়। একই জায়গায় ১৬ ও ১৭ বছর বয়সের আরও ২ নাবালকের সন্ধান মেলে। তাঁদেরও চাষাবাদ ও পশুপালনের কাজে জোর করে লাগিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে।

আরও পড়ুন: সত্য নিকেতন কাণ্ডের জের, দিল্লিতে এবার কড়া হচ্ছে বাড়ি নিরাপত্তা বিধি

উদ্ধার হওয়া ২ নাবালকের মধ্যে ১ জন নাদিসারের বাসিন্দা এবং অন্যজন ভাদোদরার ছানি এলাকার বাসিন্দা। তাঁদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। উদ্ধার হওয়া কিশোরটির বাবা মানসিকভাবে অসুস্থ এবং মা মারা গিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তাই তাকে তার কাকার হেফাজতে দেওয়া হয়েছে। ধৃত দীনেশ ও ভারতকে পরবর্তী তদন্তের জন্য সোলা থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ক্রাইম ব্রাঞ্চ। নাবালকদের কীভাবে অপহরণ করে জোরপূর্বক শ্রমে নিযুক্ত করা হয়েছিল এবং এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

---Advertisement---

No comments to show.

Leave a Comment