সাংবিধানিক সংশোধনী হিসেবে ডিলিমিটেশন বিল পাসে প্রয়োজন দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন। ডিএমকের ভূমিকা, বিরোধী শিবিরে সম্ভাব্য ক্রস ভোটিং এবং সরকারের নতুন কৌশল ঘিরে বাড়ছে রাজনৈতিক জল্পনা।
সংসদের চলতি বাদল অধিবেশনেই বহু প্রতীক্ষিত ডিলিমিটেশন বিল (Delimitation Bill) পেশ হতে পারে—এমন জল্পনা এখন তুঙ্গে দিল্লির রাজনৈতিক মহলে। সাংবিধানিক সংশোধনী হওয়ায় এই বিল পাস করাতে লোকসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই একদিকে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক দলগুলির সমর্থন নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে বিরোধী শিবিরে সম্ভাব্য ক্রস ভোটিংয়ের সমীকরণও খতিয়ে দেখছে কেন্দ্রীয় সরকার।
সরকারি সূত্রের দাবি, দক্ষিণ ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী দল দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাঝাগম (DMK) যদি শেষ পর্যন্ত বিলটির বিরোধিতা না করে, তবে প্রয়োজনীয় সমর্থনের বড় অংশই নিশ্চিত হতে পারে। যদিও শুধুমাত্র সেই সমর্থনেই সাংবিধানিক সংশোধনী পাসের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যা পূরণ হবে না। ফলে কয়েকজন বিরোধী সাংসদের ক্রস ভোটিং বা ভোটদানে বিরত থাকার সম্ভাবনাকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিলটি সংসদে তোলার আগে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সংখ্যার অঙ্ক নিয়েই চলবে তৎপরতা। কারণ, এমন গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সংশোধনীতে প্রতিটি ভোটই নির্ণায়ক হয়ে উঠতে পারে।
ডিলিমিটেশন নিয়ে দক্ষিণ ভারতের একাধিক রাজ্যের আপত্তি দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে তামিলনাড়ু (Tamil Nadu)-সহ কয়েকটি রাজ্যের অভিযোগ, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল হওয়া সত্ত্বেও নতুন জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস হলে লোকসভায় তাদের প্রতিনিধিত্ব কমে যেতে পারে। সেই কারণেই ডিএমকের অবস্থানকে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সরকারি শিবিরের একাধিক সূত্রের দাবি, বিরোধীদের অন্যতম প্রধান উদ্বেগ দূর করতে বিলের খসড়ায় নতুন কিছু প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। আলোচনায় রয়েছে, সব রাজ্যে নির্দিষ্ট হারে লোকসভা আসন বৃদ্ধির বিষয়টি খসড়ায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হতে পারে। অর্থাৎ জনসংখ্যার পার্থক্য থাকলেও আসন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট কাঠামো অনুসরণের আশ্বাস দিতে পারে কেন্দ্র।
তবে সরকার সত্যিই চলতি বাদল অধিবেশনেই ডিলিমিটেশন বিল সংসদে আনবে কি না, সে বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি। রাজনৈতিক মহলের নজর এখন সেই সিদ্ধান্তের দিকেই। বিলটি যদি সংসদে ওঠে, তাহলে সংখ্যার লড়াইয়ে সরকার প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করতে পারে কি না, সেটাই হবে আগামী দিনের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা।
Leave a Comment