১০ অক্টোবরের মধ্যে সব রাস্তা মেরামত শেষ করতে হবে, সচিব বৈঠকে কড়া নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

By Suman Debnath

July 29, 2026 10:15 AM

১০ অক্টোবরের মধ্যে সব রাস্তা মেরামত শেষ করতে হবে, সচিব বৈঠকে কড়া নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর


দুর্গাপুজোর আগে রাজ্যের পরিকাঠামো উন্নয়ন, স্বাস্থ্য পরিষেবার সম্প্রসারণ এবং প্রশাসনিক কর্মসূচির প্রস্তুতি নিয়ে নবান্নে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিভিন্ন দপ্তরের সচিবদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, দুর্গাপুজোর আগে রাজ্যের কোনও গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকতে পারবে না। বিভিন্ন জেলা থেকে বর্ষার জেরে রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার যে রিপোর্ট এসেছে, তা দ্রুত খতিয়ে দেখে মেরামতির কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নবান্ন সূত্রে খবর, আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে সমস্ত প্রয়োজনীয় রাস্তা সংস্কারের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই উদ্দেশ্যে পূর্ত দপ্তরকে অতিরিক্ত ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে অর্থের অভাবে কোনও প্রকল্প আটকে না থাকে।

রাস্তা সংস্কারের কাজের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখার বিষয়েও কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি নির্দেশ দেন, সমস্ত টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ম মেনে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। অতীতে বিভিন্ন ঠিকাদার ও সরবরাহকারী সংস্থার সঙ্গে আর্থিক ও প্রশাসনিক জটিলতার অভিযোগ ছিল। সেই অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের ভেন্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমস্যার সমাধানের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে।

আরও পড়ুন:  রেজিনগর উপনির্বাচনের প্রচারে খোদ মমতা, থাকবেন অভিষেকও, তালিকায় আর কারা?

স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও বিস্তৃত করতে বৈঠকে আর একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৬ আগস্ট কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে ‘আয়ুষ্মান ভারত দিবস’ পালন করা হবে। ওই অনুষ্ঠানে কেন্দ্রের আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতার বাইরে থাকা যোগ্য নাগরিকদের ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা’-র অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হবে। এই কর্মসূচিকে সফল করতে স্বাস্থ্য, প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে এখন থেকেই প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সাধারণ মানুষের কাছে স্বাস্থ্য পরিষেবার সুবিধা আরও সহজলভ্য করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।

স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপন নিয়েও এদিন গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ জারি করা হয়েছে। গত বছরের অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত গরম, বৃষ্টিপাত এবং দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার কারণে বহু ছাত্রছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা সামনে এসেছিল। সেই অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখে এ বছর সরকারি স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে শিশুদের না আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অনুষ্ঠান যেন অপ্রয়োজনীয়ভাবে দীর্ঘায়িত না হয় এবং এক ঘণ্টার মধ্যেই শেষ করা হয়। শিশুদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে নবান্ন সূত্রে খবর।

আরও পড়ুন:  শরৎ এল রে: সাড়ে চারশো বছরের রীতি মেনে আজও মোষবলি হয় ইদিলপুরের ঘোষ বাড়িতে

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment